রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে মোট ৭২ আসনের মধ্যে ১৬ জেলায় হেভীওয়েট প্রার্থীর সংখ্যা ৩০এরও উপরে। এরমধ্যে রয়েছেন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীও। সাবেক এমপিরা তো আসেনই। এসব আসনে নারী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন। ৭২ প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ৪০টি আসন নিয়ে বিপদে পড়তে পারে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর জোরেশোরে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। লিফলেট হাতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তারা। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভোটে অংশগ্রহণ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে দলের হেভিওয়েটসহ অনেক প্রার্থীকে। ক্ষমতাসীনরা শরিক ও মিত্রদের জন্য কিছু আসনে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিলেও রয়ে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এসব আসনেও ঘুম হারাম হয়ে যেতে পারে প্রার্থীদের। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউকে সংসদ সদস্য হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কৌশলে বেকায়দায় পড়তে পারে আওয়ামী লীগ এবং তাদের শরিক ও মিত্ররা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক দেশ বর্তমানকে বলেন, নৌকার বাইরে যারা নির্বাচন করছে, আমার দৃষ্টিতে তারা অবশ্যই বিদ্রোহী প্রার্থী। আমি মনে করি, দলের কোনো নেতাকর্মীর দল বা নৌকার বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা দলের আদর্শ মেনে চলে তাদের অবশ্যই নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। এই নৌকাকে আমরা বলি হক ভাসানীর নৌকা, এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এই নৌকা আওয়ামী লীগের নৌকা, এই নৌকা শেখ হাসিনার নৌকা। তাই নৌকার বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। দলের প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান দেশ বর্তমানকে বলেন, স্বতন্ত্র নয়, ডামি প্রার্থীর কথা বলা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আর ডামি প্রার্থী এক জিনিস নয়। ডামি প্রার্থী জেতার প্রার্থী নয়। এটা বলা হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাতে নির্বাচন না হয় সেজন্য। আর স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাখ্যা অন্য জিনিস। নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে অনেকেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক দেশ বর্তমানকে বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় দল প্রতিযোগিতা করবে-এটাই স্বাভাবিক। দলের নীতি অনুযায়ী স্বতন্ত্র রাখার সিদ্ধান্তে প্রার্থী বেশি। সময় যত যাবে, ততই নৌকার পক্ষে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে লড়ছেন নয়জন। নৌকার প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্যকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের নেতা থেকে চলচ্চিত্রের তারকা, সবাই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের দরজায়। তবে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে নয়, যোগ্য ব্যক্তিকে সমর্থন দেবে এলাকাবাসী। তানোর-গোদাগাড়ী নিয়ে রাজশাহী-১ আসনে নৌকার প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। এবার তাঁর দুর্গ ভাঙতে চাইছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীসহ আরও আটজন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আছেন তানোর উপজেলার সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহী। এই আসন থেকে কে যাবেন জাতীয় সংসদে চায়ের দোকান থেকে পাড়া মহল্লায় এখন সেই আলোচনা। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে  এবার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন আওয়ামী লীগ থেকে তিনবার মনোনয়ন পেয়ে এমপি হওয়া ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এনা। এছাড়াও রাজশাহীর আরো দুইটি আসনে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত ২ এমপি স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন।  নওগাঁর ছয়টি আসনের মধ্যে নওগাঁ-১, ৪, ৫ ও ৬ আসনে লড়াই জমবে। তবে নওগাঁ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন জলিল জনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণের লড়াই নিয়ে এখনই শুরু হয়েছে আলোচনা। অন্যদিকে, নওগাঁ-১ আসনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান তোতার। রাজশাহী-২ আসনে বাদশার সঙ্গে বাদশার লড়াই জমে উঠবে। ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী-২ আসনে নৌকার প্রার্থী হলেও মহানগর আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান বাদশার মুখোমুখি হতে হবে। রাজশাহী-৪ আসনে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এখানে নৌকার আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও রাজশাহী-৬ আসনে বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হক। নাটোরে চারটি আসনেই হবে তীব্র লড়াই। নাটোর-১-এ বর্তমান এমপি শহিদুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল কালাম, নাটোর-২ আসনে বর্তমান এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, নাটোর-৩ আসনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক এবং নাটোর-৪ আসনে বর্তমান এমপি সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয় হবে সাবেক এমপির ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আব্দুল্লাহ বিন শোভনের। সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আব্দুল মমিন মণ্ডলের নৌকার বিরুদ্ধে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসে ঈগল ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে চয়ন ইসলামের সঙ্গে সাবেক পৌর মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী হালিমুল হক মীরুর লড়াই তীব্র হবে।  চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই নৌকার মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা অস্বস্তিতে আছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় বর্তমান সংসদ সদস্যরাই নৌকা পেলেও শেষ পর্যন্ত তা ভাসিয়ে রাখতে পারবেন কিনা, এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের দুশ্চিন্তা তত বাড়ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি আসনে নৌকার বিপরীতে রয়েছেন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা মূলত আওয়ামী লীগেরই নেতা। অপর আসনে নৌকা ডোবাতে নোঙর প্রতীকের প্রচারে নেমেছেন আওয়ামী লীগের নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তবে নৌকার প্রার্থীরা বলছেন, যারা নৌকাবিরোধী তাদের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, আবার কেউ নৌকা ঠেকাতে ভিন্ন প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। এতে নৌকার বিজয়ে প্রভাব পড়বে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুল। এই আসনের বেশির ভাগ ভোটার মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে সৈয়দ নজরুলই নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছেন। অন্যদিকে, অপর প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীরও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই আসনে জাতীয় পার্টি, এনপিপি, বিএনএফ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আরও চার প্রার্থী থাকলে তারা কেউ তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার মতো প্রার্থী নন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট) আসনে স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না নৌকার কা-ারি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মু. জিয়াউর রহমান। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসকে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই আসনের তিনটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গোমস্তাপুর। সেখানে অনেক জনপ্রিয় মোস্তফা। সংসদ সদস্য থাকার সময় এলাকায় উন্নয়নও করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি ছেড়ে বিএনএমর প্রার্থী হওয়া আব্দুল মতিন। তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। বর্তমান পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোখলেসুর রহমান তার দলবল নিয়ে মতিনের নোঙর প্রতীকের প্রচারে নেমেছেন। সঙ্গে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী।

অন্যদিকে, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে ভোটের লড়াই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে জমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জোটগত কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে গেছে আওয়ামী লীগ। এতে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচনার এসেছেন স্বতন্ত্র আসাদুজ্জামান বাবলু ও মসিউর রহমান রাঙ্গা। নিজেদের প্রার্থী না থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পঞ্চগড়-১ আসনে নৌকার প্রার্থী নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার সঙ্গে জমজমাট নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে স্বতন্ত্র হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্য লড়াই জমে উঠতে পারে। নৌকার প্রার্থীর সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের পদত্যাগী চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে নির্বাচন জমে উঠতে পারে জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির গোপাল চন্দ্র রায়ের মধ্যে। দিনাজপুরের ছয়টি আসনে অন্তত দুটি আসনে স্বতন্ত্রদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এর মধ্যে দিনাজপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ কুমার ঘোষ কাঞ্চন এবং দিনাজপুর-৬ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আজিজুল হক চৌধুরীর তীব্র লড়াই হতে পারে। নীলফামারীতে প্রায় প্রতিটি আসনেই লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, নীলফামারী-১-এ আওয়ামী লীগ প্রার্থী আফতাব উদ্দিন সরকারের সঙ্গে বিএনএমের জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নীলফামারী-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের। নীলফামারী-৩ ও ৪ আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকায় এসব স্থানে জাতীয় পার্টির রানা মোহাম্মদ সোহেলের সঙ্গে স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ প্রার্থীর স্ত্রী মারজিয়া সুলতানা ও আবু সাঈদ শামীমের নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নীলফামারী-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহসান আদেলুর রহমানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদ্য পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিনের ভোটযুদ্ধ জমে উঠতে পারে। লালমনিরহাট-১-এ নৌকার মোতাহার হোসেনের সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমানের জমজমাট নির্বাচনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। লালমনিরহাট-২-এ নুরুজ্জামান আহমেদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর পরিচালক সিরাজুল হক এবং লালমনিরহাট-৩ আসনে মতিয়ার রহমানের সঙ্গে জাবেদ হোসেন বকরের তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কুড়িগ্রামের দুটি আসনের মধ্যে কুড়িগ্রাম-৩-এ আওয়ামী লীগের সৌমেন্দ্র প্রসাদ পাণ্ডের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আব্দুস সোবহান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. আককাছ আলী সরকার এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নৌকার বিপ্লব হাসানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ও এ কে এম সাইফুর রহমানের ত্রিমুখী লড়াই হবে। গাইবান্ধা-১ আসনে জাপার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী নৌকার মনোনীত, পরে প্রত্যাহার করা আফরুজা বারীর মেয়ে নাহিদ নিগারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। একইভাবে গাইবান্ধা-২ আসনে জাপার আব্দুর রশিদ সরকারের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীর, গাইবান্ধা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল হক সরকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মাহমুদ হাসান রিপনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলীর তীব্র লড়াই হতে পারে। বগুড়ার ৭টি আসনের মধ্যে বগুড়া-৫ ছাড়া প্রায় প্রতিটি আসনেই তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বগুড়া-১-এ স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান এমপি সাহাদারা মান্নানের এবং বগুড়া-৬-এ বর্তমান এমপি রাগেবুল আহসান রিপুর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নানের লড়াই জমে উঠতে পারে। বগুড়া-৪ আসনে জাসদ থেকে নৌকার প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলমের (হিরো আলম) তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

দলের একাধিক সুত্র জানিয়েছে, শরিক ও মিত্রদের শত অনুরোধ সত্ত্বেও নির্বাচনী আমেজ ও ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই মূলত প্রতিটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। স্বতন্ত্রদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে নিজ দলের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এমনকি প্রভাবশালী নেতাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন শেখ হাসিনা। ফলে বেশিরভাগ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে অন্তত ১৫ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকেও।