বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে স্বজনরা খোকনের পরিচয় সনাক্ত করেন। এর মাধ্যমে নিহত চারজনেরই পরিচয় সনাক্ত হলো। খোকনের বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার জলুশাহ গ্রামে। বাবার নাম মৃত নুর ইসলাম। স্ত্রী সাজন আক্তার এবং এক ছেলে-এক মেয়েসহ নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকায় থাকতেন। তার চাচাতো ভাই মো. জিলহজ্জ জানান, অবন্তি কালার টেক্সটাইল লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন খোকন। একই কারখানায় চাকরি করেন খোকনের স্ত্রী। খোকনের বড় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার নিজের দেড় বছরের মেয়ে শারমিন এবং মা বকুল বেগমকে (৫৫) নিয়ে গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে সোমবার দিবাগত রাতে মা এবং মেয়েকে নিয়ে খোকন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। একই বগিতে ছিলেন তিনজন। তিনি জানান, ট্রেনটিতে যখন আগুন ধরে, তখন জানালা দিয়ে খোকন তার মাকে বাইরে বের করেন। এরপর জানালা দিয়েই তার মেয়েকে মায়ের কোলে দেন। কিন্তু ধোয়ায় বগিটি আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় নিজে আর বের হতে পারেননি। তার বৃদ্ধ মাও তাকে আর বের করার কোনো সুযোগ পাননি। এরপরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না তার মায়ের। স্বজনরা জানান, খোকনের মা এই দুর্ঘটনাটি কাউকে জানাতে পারছিলেন না। মঙ্গলবার সকালে টেলিভিশনে খোকনের মায়ের আহাজারি দেখে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরবর্তীতে গ্রাম থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশনে এসে খোকনের মায়ের সন্ধান পান। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেলে খোকনের লাশের সন্ধান পান। এদিকে ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেতাফুর রহমান জানান, গতকাল পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। আজ তার স্বজনরা এসে প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় সনাক্ত করেছেন। আমরাও বিষয়টি কিছুটা নিশ্চিত হয়েছি। এছাড়া আর কোনো পরিবার লাশের দাবিদার না থাকায় নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি খোকনেরই লাশ। তবুও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নিহত চারজনের লাশেরই পরিচয় সনাক্ত করা হলো। গতকাল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া রশিদ ঢালী ও খোকনের মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে দুটি লাশই হস্তান্তর করা হবে। ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিহত অন্য দুজন হলেন: নাদিরা আক্তার পপি (৩৫) ও তার ছেলে ইয়াসিন (৩)। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে হরতাল সমর্থকরা মোহনগঞ্জ এক্সেপ্রেসের বগিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভোর ৫টা ৪ মিনিটে খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ৩টি ইউনিট। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর পৌনে ৭টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে একটি বগি থেকেই চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।