ফটিকছড়িতে জোটের নাকি দলের ‘প্রার্থী’, কাটছে না ধোঁয়াশা

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

দরজায় কড়া নাড়ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়িতে আসনে জোটের প্রার্থী নাকি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নিয়ে কাটেনি এখনও ধোঁয়াশা। এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সাংসদ (সংরক্ষিত) খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। অন্যদিকে, ১৪ দলের জোটের মধ্যে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের জন্য কোনো আসন ছাড়ের ঘোষণা না থাকলেও নিজের ‘আসন নিশ্চিতের’ দাবি করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও ওই আসনের বর্তমান সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তবে এ বিষয়ে এখনও দল থেকে কোনো আদেশ পাইনি বলে জানান দলের মনোনয়ন পাওয়া সনি। ফলে আগামী নির্বাচনে ওই আসনে রয়েগেছে এখনো ধোঁয়াশা। তাছাড়া, গুঞ্জন রয়েছে এই আসনে কিংস পার্টি খ্যাত বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সভাপতি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীও জোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন। সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে সাধারণ ভোটাররা।

গতকাল শুক্রবার বিকালে ১৪ দলের জোটের নেতা নজিবুল বশর দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, আমি আজকে (গতকাল) ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিং করার পর ফোন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জোটের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়ে আশ^স্ত করেন।

এ সময় তিনি দাবি করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছেন বললেন কাদের ভাই, ওই সময় মির্জা আজম এমপি ও শাহজাদা মহিউদ্দিনসহ দলের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন । এ সময় তিনি আরও বলেন, গতকাল রাত (বৃহস্পতিবার) ১১ টার পরে ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু জোটের মনোনয়নের বিষয়টি আমাকে নিশ্চিত করেন।

এদিকে এখনও দল কোনো সিদ্ধান্ত দেইনি বলে জানান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া বর্তমান সাংসদ (সংরক্ষিত) খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকালে দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, আমার এলাকার দল এবং সাধারণ ভোটাররা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে প্রস্তুত। তারা র্দীঘদিন পর দলীয় প্রার্থী পেয়ে খুবই খুশি। দল বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দলের (আমাকে) প্রার্থী দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপহার দিতে উম্মুখ হয়ে আছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া এই প্রার্থী।

এছাড়াও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সভাপতি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীও জোটের প্রার্থী হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খাদিজাতুল আনোয়ার সরে গেলেও লড়াইয়ে থাকতে পারেন ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হোসেন মো. আবু তৈয়ব। ফলে জোটের একক প্রার্থী হলেও স্বতন্ত্রকে মোকাবেলা করে জয় পাওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ১৯ নম্বরে নিবন্ধন পায় তরিকত ফেডারেশন। ২০০৮ সালের ৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পায় দলটি। দলটির নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুলের মালা’। কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকার ধানমণ্ডিতে। দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসন থেকে মহাজোটের সমর্থন নিয়ে নৌকা প্রতীকে দ্ইু লাখ ৩৮ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের ৭ আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত বৃহস্পতিবার রাতে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এ তথ্য জানিয়েছেন।

শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৭ আসনগুলো হলো:

ওয়ার্কার্স পার্টি: বরিশাল-৩, রাশেদ খান মেনন, রাজশাহী-২ ফজলে হোসেন বাদশা, সাতক্ষীরা-১ মোস্তফা লুৎফুল্লাহ আহসান।

জাসদ: কুষ্টিয়া-২, হাসানুল হক ইনু, লক্ষীপুর-৪, মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৪ রেজাউল করিম তানসেন।

জেপি: পিরোজপুর-২ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোর মধ্যে রাজশাহী-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। এ ছাড়া বগুড়া ৪-হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, লক্ষীপুর -৪ ফরিদুন্নাহার লাইলি, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহমেদ স্বপন, বরিশাল-৩ সরদার মো. খালেদ হোসেন এবং কুষ্টিয়া-২ আসন ফাঁকা রেখেছিল আওয়ামী লীগ।

 

দেশ বর্তমান/এআই