সায়মা ওয়াজেদের জন্মদিনে মেয়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের চার বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানি মরহুম ড.ওয়াজেদ মিয়ার একমাত্র কন্যা। তিনি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের দৌহিত্রী। তিনি ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসাবে আজ তাঁর ৫১’তম জন্মদিন। ১৯৭৫ সালের ১৫’আগস্টে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর বাবা-মা, খালা ও ভাইয়ের সাথে সায়মা ওয়াজেদও জার্মানি থেকে ভারতে নির্বাসিত হন। সায়মা ওয়াজেদ লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় ভারতে। অতঃপর তিনি ১৯৯৭ সালে য়ুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ২০০২ সালে একই বিশ্বদ্যিালয় থেকে ক্লিনিক্যাল মনস্তত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজিতে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি অর্জন করেন। সায়মা ওয়াজেদ ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও স্নায়ুবিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের উপর কাজ শুরু করেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসাবে কাজ করছেন। তিনি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানী। সায়মা ওয়াজেদ তাঁর কাজের জন্য বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও স্বীকৃতি লাভ করেছেন। তিনি ২০০৪ সালে হু (ডব্লিউএইচও) এক্সেলেন্স পুরস্কার লাভ করেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৭ সালে তিনি আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর কাজের জন্য ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ”বিশিষ্ঠ প্রাক্তন শিক্ষার্থী” পদক প্রদান করে। অটিজম নিয়ে তাঁর গবেষণা ও কাজের স্বীকৃতি হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। সায়মা ওয়াজেদ ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ১১ ভোটদাতা দেশের ভোটাভুটিতে ৮ ভোট পেয়ে এ পদে নির্বাচিত হন। ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে অধিষ্টিত থাকবেন। এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি এই পদে নির্বাচিত হলেন।