চার অঞ্চলে বিভক্ত হচ্ছে রেলওয়ে

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে দুটি অঞ্চল অর্থাৎ পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত। এখন এই দুই থেকে চার অঞ্চলে বিভক্ত হচ্ছে রেলওয়ে। আর সারা দেশের তিন হাজার ৯৩ কিলোমিটার রেললাইন পরিচালনার জন্য ‘পরিচালন বিভাগ’ হচ্ছে আটটি। সম্প্রতি রেলওয়ের বিদ্যমান কাঠামো বিভাজন সংক্রান্ত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দ্রুতই এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান। বর্তমানে দেশের ৪৮ জেলা রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। প্রান্তিক পর্যায়ে অপারেশন কার্যক্রম ভালোভাবে চালাতে এবং রেল নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে রেলওয়েকে বিকেন্দ্রীকরণ করার এই পদক্ষেপ। যদিও সুষ্ঠুভাবে ট্রেন পরিচালনার লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঞ্চল ও বিভাগ বাড়ানোর অনুশাসন দিয়েছিলেন। পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রেলওয়েকে চারটি অঞ্চল ও আটটি পরিচালন বিভাগে বিভক্তির সুপারিশ করেছিল রেলওয়ে। তারই এক দশক পর বাংলাদেশ রেলওয়েকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে নেয়া সেই পদক্ষেপ এখন গতি পাচ্ছে। সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে গঠিত রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা নিয়ে। পশ্চিমাঞ্চলকে ভেঙে খুলনা ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন অঞ্চল ‘দক্ষিণাঞ্চল’র প্রস্তাব করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের অধীনে পরিচালন বিভাগ হিসেবে যথাক্রমে যশোর ও ফরিদপুর করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে গঠিত চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে। এর মধ্যে ঢাকা ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘মধ্যাঞ্চল’র প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘মধ্যাঞ্চল’র সদর দফতর হচ্ছে ময়মনসিংহ। ‘মধ্যাঞ্চল’ এর অধীনে পরিচালন বিভাগ হবে ময়মনসিংহ ও ঢাকা। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে থেকে ঢাকা বিভাগ বাদ পড়লে নতুন পরিচালন বিভাগ হবে সিলেট। আর রাজশাহী ও রংপুর নিয়ে গঠিত পশ্চিমাঞ্চলের পরিচালন পরিধি কমলেও বিদ্যমান পরিচালন বিভাগ পাকশী ও লালমনিরহাট অপরিবর্তিত থাকছে। রেলের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) ও প্রস্তাবনা কমিটির সদস্য অসীম কুমার তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা একটা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন ঢাকায়। এখন রেলওয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এখানে অনেক বিষয় আছে। এটি নিয়ে আরও অনেক সভা হবে। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এদিকে সভায় দ্রুততার সঙ্গে নতুনভাবে প্রস্তাবিত বিভাগসমূহের অধিক্ষেত্র, জনবলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পার্সোনেল শাখার মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নতুন কাঠামোতে চার অঞ্চলের প্রধান হবেন ৪ জন মহাব্যবস্থাপক। আর পরিচালন বিভাগগুলোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন করে বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক। একইভাবে রেলের পুরো জনবল কাঠামোকে ঢেলে সাজানো হবে। ট্রেন পরিচালনাগত সিদ্ধান্তগুলো নেবে অঞ্চল ও বিভাগ। আর নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো দেখবে রেলের সদর দফতর তথা রেলভবন সংশ্লিষ্টরা।