বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের আগের রাতেই বাসে অগ্নিসংযোগ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দফা অবরোধের আগের রাতে শুধু রাজধানীতেই আটটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর বাইরেও ঘটেছে একই ঘটনা। পুলিশ বলছে, আগুন সন্ত্রাসীদের ছাড় দেয়া হবে না একবিন্দুও।
চতুর্থ দফা অবরোধ শুরু হওয়ার আগে শনিবার (১১ নভেম্বর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আরামবাগ পুলিশ বক্সের পাশে লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। এর ১০ মিনিটের ব্যবধানে গাবতলীতে রাত সাড়ে ৮টায় আরেকটি বাসে আগুন দেয়া হয়। এছাড়া রাত ৯টার দিকে গুলিস্তানে সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে আরেকটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় অবরোধকারীরা। আগুন সন্ত্রাসে দগ্ধও হন একজন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে, রাজধানীর মতিঝিল, গাবতলী, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, আগারগাঁওয়ের তালতলা এবং কাফরুল থানা এলাকায় শনিবার রাতেই অন্তত ৮টি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও গাজীপুরে বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অবরোধের আগের রাতে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ যেন অবরোধকারীদের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।
নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ফারুক হোসেন জানান, আগুন সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
তিনি বলেন, অনেক আসামিকে আমরা ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করেছি। মামলার পর তদন্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুতরাং নাশকতাকারী যারাই হোকে তাদের পেছনে যত বড়ই গডফাদার থাকুক না কেন; তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। তাদেরকে বিন্দমাত্র ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, নাশকতারীদের ধরতে গণপরিবহনে যাত্রীবেশে কাজ করছে তাদের টিম। তাদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গতকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) বাসে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রসঙ্গত: সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশকে ঘিরে সংঘর্ষের পর বিএনপির হরতালের পর একে একে চতুর্থ দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে পরবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে সমমনা জোট ও দল এ কর্মসূচি পালন করছে।