স্যোশাল মিডিয়ায় ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মানদানার একটি ডিপফেক ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি রীতিমতো তোলপাড়ের সৃষ্টি করে সমগ্র ভারতে।
সম্মান হানিকর এই ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন জারা প্যাটেল এক তরুণী যার ক্লিপ ব্যবহার করেই মূলত রাশমিকার ভিডিওটি তৈরি করা হয়। সে নিজ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানায়, এ ঘটনা পর নারীদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার জারা প্যাটেল। তারই একটি ভিডিও ব্যবহার করে রাশমিকার ফেক ভিডিওটি তৈরি করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে জারা বলেন, ‘কেউ একজন আমার দেহের ওপর জনপ্রিয় অভিনেত্রীর চেহারার ছবি বসিয়ে একটি ডিপফেক ভিডিও তৈরি করেছে। এ ডিপফেক ভিডিও তৈরির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যা হচ্ছে তাতে আমি অত্যন্ত বিব্রত এবং বিচলিত বোধ করছি।’
জারা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘আমি নারীদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত এবং সেসব মেয়েদের নিয়ে চিন্তিত, যারা এখন তাদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতে আরও বেশি ভয় পাবে। দয়া করে ইন্টারনেটে কিছু দেখলে সেটির সত্যতা যাচাই করুন। ইন্টারনেটের সবকিছুই সত্য নয়।’
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাশমিকা মানদানা তাড়াহুড়ো করে একটি লিফটে উঠছেন। তবে, ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি করা সে ভিডিওর নারী আসলে রাশমিকা নন, বরং জারা প্যাটেল। এআই টুল ব্যবহার করে জারার ঘাড়ে রাশমিকার মাথা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে রাশমিকা বলেন, ‘নেট দুনিয়ায় আমার ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমার ভীষণ খারাপ লাগছে। সত্যি বলতে, বিষয়টি নিয়ে আমি শঙ্কিত। এই শঙ্কা শুধু নিজের জন্য নয়, বরং তাদের প্রত্যেকের জন্য, যারা প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’
অভিনেত্রী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, ‘আজ একজন নারী ও অভিনেত্রী হিসেবে আমি আমার পরিবার, বন্ধু–বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছেও কৃতজ্ঞ; যারা আমাকে এই সময়ে সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনা যদি আমার স্কুল কিংবা কলেজজীবনে ঘটত, তবে আমি কীভাবে বিষয়টি সামাল দিতাম তা কল্পনাও করতে পারছি না। আমাদের সবার উচিত সমষ্টিগতভাবে এই ধরনের সমস্যা নিয়ে কথা বলা।’