রোববার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আসনটির ১১৫ কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
এ আসনে আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক পিংকু (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ রাকিব হোসেন (লাঙল), জাকের পার্টির সামছুল করিম খোকন (গোলাপ ফুল) ও এনপিপির সেলিম মাহমুদ (আম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহীদ স্মৃতি একাডেমি কেন্দ্রে ভোট দেন নৌকার প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু। এ কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ভোটার দেখা যায়। একই সময় কেন্দ্রটি পরিদর্শনে আসেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ।
এদিকে লাঙ্গল, গোলাপ ফুল ও আম প্রতীকের প্রার্থী অধিকাংশ কেন্দ্রেই এজেন্ট দিতে পারেননি। নেতাকর্মী ও জনবল না থাকায় প্রার্থী দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানা গেছে, লাঙ্গলের প্রার্থী রাকিব হোসেন পৌর শহরের মজুপুর এলাকার পাবলিক স্কুল ও গোলাপ ফুলের প্রার্থী সামছুল করিম খোকন লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেবেন। তবে আম প্রতীকের প্রার্থী সেলিম মাহমুদ কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন তা জানা যায়নি। সেলিম মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল মারা যান। এতে ৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে শূন্যপদে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
নিরাপত্তায় ১৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৬ প্লাটুন বিজিব, ৭ প্লাটুন র্যাব, ৯৫০ জন পুলিশ ও ১৪৯৫জন আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এ আসনে চার লাখ তিন হাজার ৭৪৪ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে দুই লাখ ৯ হাজার ৯৬ জন পুরুষ ও এক লাখ ৯৪ হাজার ৬৪৮ জন নারী ভোটার।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা অঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ভোরেই প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-বিজিবি ও আনসার সদস্যরা কাজ করছেন। এছাড়া ১৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বরত আছেন। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটারারও নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করছি।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, নির্বাচনকে সফল করতে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বিজিবি-র্যাব ও আনসার সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। শেষ সময় পর্যন্ত ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারবেন।