চুয়াডাঙ্গা বাণিজ্যিকভাবে বিদেশী ফল চাষে সফলতার তুলনায় বেশিরভাগই প্রতারিত হচ্ছে কৃষি উদ্দ্যোক্তা। আর এই বিদেশী ফল চাষে তারা মূলত উদ্বুদ্ধ হয়েছে ফেসবুক অথবা ইউটিউবের কনটেন্ট দেখে। লোকসানের পরিমান অনেক বেশী হওয়াতে অনেকেরই মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে।
জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গাতে দীর্ঘ দিন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, বরুই স্ট্রবেরীসহ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফল চাষ হয়ে আসছে। আর মূলত এই চাষ অধিকাংশই শিক্ষিত যুবকরাই ফেসবুক ও ইউটিউবের ভিডিও কনটেন্ট দেখেই বিদেশি ফল চাষে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে ।
চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের জান্টু বিশ্বাসের ছেলে শান্ত বিশ্বাস। তার বাবা কর্মক্ষম হওয়াতে সংসারের হাল তারই হাতে।
তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ইউটিউব ও ফেসবুকের কনটেন্ট দেখে বিদেশী ফসল চাষ করে লোকসানের স্বীকার হয়েছে। এখন মাল্টা বাগান কাটার অপেক্ষা আছেন।
জেলার সদর উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের বখতিয়ার হোসেন বকুল জানান, আমি বিদেশী ফল মাল্টা চাষ করেছিলাম লাভের আশায়, চাষ করার পর আশনারুপ ফল তো ধরেইনি, সাথে বাজারে দামও পাইনি, আবার বাজারে গিয়ে দেখি খুচরা বিক্রি হচ্ছে আকাশ ছোয়া দামে। দাম নিয়ন্ত্রণে এখানেও সিন্ডিকেট। বিদেশী ফল চাষ না করে যদি দেশী ফসল চাষ করতাম লাভবান হতাম। ইতিমধ্যে মাল্টা বাগান কেটে দেশী ফসল চাষের কথা ভাবছি। আমি প্রচুর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এরজন্য দায়ী আমি বলব ভুঁইফোড় কন্টেন্ট নির্মাণকারীরা, কারণ তারা চারা বিক্রি করা বা চারা বিক্রেতাদের বিজ্ঞাপন করার জন্যই চটকদার ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে দেয়। আর ভিডিও কন্টেন্ট দেখে আমার মত অনেকেই বাণিজ্যিক ফলের বাগান করে প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
জেলা সদরের সুবদিয়া গ্রামের শামীম আল মামুন তিনি বিদেশী ফলের বাগান কেটে ইতিমধ্যেই দেশী ফসল চাষ শুরু করেছে। তিনিও চটকদার ভিডিও কন্টেন্ট নির্মাণককারীদের দায়ী করেছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, সঠিক চারা নির্বাচন ও সঠিক পরিচর্চার অভাবে বিদেশী ফল চাষে লোকসান হতে পারে। এছাড়াও আমাদের সরকারি চারা বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান থেকে চারা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
চলতি বছরে চুয়াডাঙ্গায় ৮ হাজার ৬’শ ৭০ হেক্টর জমিতে বিদেশী ফল চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর।