ফিলিস্তিনে নিরীহ মুসলিমদের ওপর ইসরায়েলিদের আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে রাজধানীর সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নয়া পল্টনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমান ফিলিস্তিনবাসীকে সমর্থন জানাচ্ছি। দখলদার ইসরায়েলিদের আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই ফিলিস্তিনে চলমান আগ্রাসন-হত্যা বন্ধ না হলে রক্তের বন্য বয়ে যাবে। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে কোটি কোটি মুসলমান প্রস্তুত রয়েছে।
তারা বলেন, ফিলিস্তিনবাসিকে খাদ্য, পানীয়, জ্বালালি, বিদ্যুৎ বন্ধ করে যে বর্ববরতার পরিচয় ইসরায়েল দিয়েছে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। যদি এ বর্বরতা চলতে থাকে তাহলে এর কড়া মূল্য দিতে হবে ইসরায়েলকে।
হেফাজত নেতারা বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে আহ্বান জানাচ্ছি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলুন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে তাদের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করুন। আমেরিকাসহ যেসব দেশ দখলদার রক্তপিপাসু ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে তাদের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি।
সমাবেশে বিক্ষোভকারী মুসল্লিরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর, ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন- জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, নিপাত যাক নিপাত যাক- ইসরায়েল নিপাত যাক, জেগেছে জেগেছে, বিশ্বমুসলিম জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে সমবেত হয় মুসল্লিরা। ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলিমদের ওপর দখলদার ইসরায়েলিদের আগ্রাসন বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আগত যুবক থেকে বৃদ্ধ সকলের হাতে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা আর কপালে পবিত্র কালিমার পতাকা ছিল। তাদের হাতে থাকা প্লাকার্ডে ‘ব্রেক ডাউন ইসরায়েল’, ‘রক্তের বদলা রক্ত’, ‘প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’ লেখা ছিল।
এদিকে, সমাবেশ ঘিরে ব্যাপকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। রাজধানীর নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, দৈনিক বাংলা মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) সদস্যদের দেখা যায়।