ব্যবসায়ী মোতাজ্জেরুল ইসলাম ওরফে মিঠু’র জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৫শ’ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের জালে ধরা পড়লেন আরেকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। গত ৪ অক্টোবর তার আয় বহির্ভূত ৫০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার বিনিয়োগের সঠিক উৎস তিনি জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছরের তদন্ত শেষে গত ৪ অক্টোবর তার মোট ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় পাঁচশো কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মিঠু বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
মিঠুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে সমস্ত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বক্সবিল নামে আভিজাত এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট। যেটি ২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে তিনি কিনেছিলেন। তার বর্তমান মূল্য এখন ৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। আটলান্টায় মোটেল সিক্স নামে একটি বিলাসবহুল মোটেলের অংশীদার। যেখানে তার অংশীদারিত্ব ৭ মিলিয়ন ডলার। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটে মিঠুর নামে দুটি দোকান রয়েছে। এই দুটি দোকানের মূল্য এক মিলিয়ন ডলার ডলার। এছাড়া ম্যান হার্ডনে ৪ হাজার স্কোয়ার ফিটের তার একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। যেটির মূল্য ১৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় তার দুটি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মিঠু বাংলাদেশে আলোচনায় আসেন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর। এই সময় তিনি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে স্বাস্থ্য খাতে বিপুল লুটপাট শুরু করেন। পরবর্তীতে যারাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছেন সবার সঙ্গেই তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে।
মোতাজ্জেরুল ইসলাম ‘মিঠু কন্টাক্টর’ নামে পরিচিত। তার বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে তিস্তা নদীর পাড়ে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হন। এরপর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় একচেটিয়া রাজত্ব করেন। কিন্তু কোন বারই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে তদন্ত হলেও সেই সমস্ত তদন্ত থেকে তিনি বেরিয়ে যান।
২০১৬ সাল থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় তখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেন এবং সেখানেই তিনি এখন ব্যবসা করছেন। ঢাকায় তার মূল প্রতিষ্ঠান লেক্সিকোন মার্চেন্টাইস। তবে এই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তার অন্তত ৩০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মিঠুর সম্পত্তি জব্দ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে যে, এই সম্পদগুলো বৈধ পথে উপার্জিত নয় এবং তার এই সম্পদ অর্জনের উৎস মিঠু দেখাতে পারেনি। আর এ কারণেই তার সম্পত্তিগুলো জব্দ করেছে। তবে মিঠু এখন এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার গ্রহণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।
মিঠু ২০১৬ সালে ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে পরিচিত দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে কোম্পানি খোলেন এবং পানামা পেপারসে তার নাম উঠেছিল। এই দ্বীপ রাষ্ট্র থেকেই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন করেন এবং বিনিয়োগ কোটায় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।