মৎস্য খাতে ই-সার্টিফিকেশন চালু

দেশকে স্মার্ট দেশে রূপান্তরে সব খাতকে স্মার্ট করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে মৎস্য অধিদফতরে ই-সার্টিফিকেশন ও ল্যাবরেটরি তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সংযোজন করা হয়েছে।

মৎস এবং মৎসজাত পণ্যের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অর্থায়নে এ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মৎস্য ও মৎসজাত উপকরণের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে ২০টি লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয়। ফলে মৎস অধিদপ্তরের মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগারের কর্মপদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এই উদ্যোগ মৎস ও মৎসজাত উপকরণের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় সংকোচন এবং স্বচ্চতা ও গতি বাড়াতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
দেশের মৎস্য খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাত থেকে খাবারের একটি বড় অংশের চাহিদা মেটে। মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যে উপাদান দরকার তার একটি অংশ মাছে রয়েছে। মাছ বিদেশে রফতানি করে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয় যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি বিশ্বের ৫২ টি দেশের মাছ রফতানির মাধ্যমে রফতানিকৃত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের চমৎকার উন্নয়ন হচ্ছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে স্মার্ট বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের মাছ আমদানি ও রফতানি সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের চাহিদা পূরণ যথাযথভাবে করতে গেলে ই-সার্টিফিকেশনের স্মার্ট পদ্ধতি আমাদের জন্য খুবই সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে মূহুর্তের ভেতর ঝামেলাহীনভাবে সেবা প্রদান করে গুণগত মান যেমন নিশ্চিত করা যাবে, অনুরূপভাবে সময়ের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে মাছ বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে যা দেশের জিডিপিতে অবদান রাখছে। এজন্য রফতানি সংশ্লিষ্ট অটোমেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক প্রকল্প সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং ই-সার্টিফিকেশন সিস্টেমে ২০ টি সেবা স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় বিধি বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে মর্মে আশা প্রকাশ করেন। যেহেতু ই-সার্টিফিকেশন ও ল্যাব ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সমন্বিতভাবে কাজ করবে সেহেতু ল্যাব কর্মকর্তাগণ নিবিড়ভাবে সেবা প্রদান করতে পারবেন।
ই-সার্টিফিকেশন সিস্টেম ডিজিটাল এবং সহজে বোধগম্য উপায়ে ১১ ধরনের লাইসেন্স, স্বাস্থ্য সনদ, আমদানিকারক দেশের চাহিদা অনুসারে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সনদ, আমদানি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, এবং অনাপত্তি সনদসহ নানা ধরনের সেবা প্রদান করছে। একারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক এবং সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে যা মৎস্য ও মৎস্যজাত উপকরণের উৎপাদন ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে। ডিজিটাল লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার চাহিদা ও আস্থা বৃদ্ধি করে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে। মৎস্য অধিদপ্তরের ল্যাব ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এফআইকিউসি ই-সার্টিফিকেশন এবং কাস্টম এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমকে যুক্ত করে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাব রিপোর্ট প্রেরণ করবে।
বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (বিটিএফ) প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারকে কৃষিপণ্যের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহায়তা করছে। বিটিএফ প্রকল্প বাংলাদেশি বন্দরের প্রক্রিয়াগত বাধা অপসারণ, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সংস্থা, পরীক্ষাগার ও হিমাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, এবং হিমাগার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সহায়ক উপকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।