খেলাপিতে ‘নড়বড়ে’ অর্থনীতি

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট ঋণ খেলাপির সংখ্যা সাত লাখ ৮৬ হাজার ৬৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ঋণ পরিশোধ না করায় বছরের পর বছর এসব খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। দেশি-বিদেশী ৫৯টি ব্যাংক, ২০ প্রতিষ্ঠান এবং সহস্রাধিক ব্যক্তি ঋণ খেলাপীর তালিকায় রয়েছেন। এদের কেউ কেউ আইনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ব্যাংকিং খাতে ঋণের পরিমাণ ছিলো প্রায় ১৫ লাখ কোটি টাকা, খেলাপি ঋণণের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা।

ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রক সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষগুলোর অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে ৫৯ বাণিজ্যিক ব্যাংকে এসব শীর্ষ খেলাপি সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ নবায়ন থেকে শুরু করে খেলাপি ঋণের তথ্য প্রদর্শনসহ নানা ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেয় এসব ব্যাংক। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের প্রতি খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ কার্যক্রমে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বড় ঋণ কমিয়ে ছোট ছোট ঋণ অর্থাৎ এসএমই এবং কৃষি ঋণ বেশি হারে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং এবি ব্যাংক। আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ব্যাংক এশিয়ার খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৫৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; খেলাপির হার ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ; খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৬১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কমার্শিয়াল ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০টি ৪০ লাখ টাকা; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২ শতাংশ। ঢাকা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১২২ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ডাচ বাংলা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৮২৮ কোটি টাকা; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। ইস্টার্ন ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯০৭ কোটি টাকা; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৩ শতাংশ। এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ১১কোটি ৩২ লাখ টাকা; খেলাপির হার ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপির ঋণ ২ হাজার ৯৭ কোটি; খেলাপির ঋণের হার ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫৫ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আইসিবি ইসলামী ব্যাংক মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯১ কোটি টাকা; ব্যাংকটির মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আইএফআইসি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ; খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২৯৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ; মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ১০১ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৬২ কোটি ২১ লাখ টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৫৪ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩৫৪ কোটি টাকা; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৬৯ কোটি টাকা; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মধুমতি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২১৪ কোটি টাকা; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা; ব্যাংকটির হার ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা; ব্যাংকটির এ খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এনসিসি) মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৩৩ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশ। এনআরবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৭২ কোটি টাকা; ব্যাংকটির মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ খেলাপি ঋণ। ওয়ান ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। পদ্মা ব্যাংকের মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ২৭ শতাংশ খেলাপি; ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৯৬ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। প্রাইম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা; খেলাপির হার ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ২০৮ কোটি টাকা; খেলাপির হার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৩২ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। সীমান্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এক হাজার ৬৫২ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৯৭ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। সাউথইস্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৫৬২ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৬৩ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দ্য সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৫১৫ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। ট্রাস্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২০ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ইউনিয়ন ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৫২ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৮০৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা; ব্যাংকটির মোট ঋণের ৬ দশমিক ১১ শতাংশ খেলাপি। উত্তরা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ২৭২ কোটি টাকা; খেলাপির হার ৮দশিক ৩৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাংক আল ফালাহর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা; খেলাপি ঋণের হার ২ দশমিক ১২ শতাংশ।সিটি ব্যাংক এনএ-এর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২২ কোটি টাকা; খেলাপির হার এক শতাংশের নিচে। কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলনের খেলাপি ঋণের হার এক শতাংশের সামান্য উপরে; ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৫ কোটি টাকা। হাবিব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১১ শতাংশ ছুঁইছুঁই; খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮ কোটি টাকা। এইচএসবিসি ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ৪ শতাংশ খেলাপি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৮৫ কোটি টাকা লাখ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান বাংলাদেশে বিতরণ করা ঋণের প্রায় পুরোটাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৯৮ শতাংশ। খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৩৫৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ; খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৯৫ কোটি ৯ কোটি টাকা। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঋণের এক শতাংশ খেলাপি। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। উরি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ; ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১১ দশমিক ২২ শতাংশ; ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২২ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ৫২ শতাংশ খেলাপি; খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৩৯৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এছাড়া সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৭৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি এক হাজার ৬৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৮৫৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। খেলাপি এক হাজার ৫২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। রিমেক্স ফুটওয়্যারের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এদের পুরোটাই খেলাপি ঋণ। রাইজিং স্টিল কোম্পানির ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৪২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ৯৯০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৯৬৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, এর পুরোটাই খেলাপি। রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যারের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ একই। তাদের খেলাপি ঋণ ৮৭৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ক্রিসেন্ট লেদারর্স প্রডাক্টের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৫৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমসের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সাদ মুসা ফেব্রিক্সের ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বি আর স্পিনিং মিলসের স্থিতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এসএ অয়েল রিফাইনারির ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৭২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ৭০৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। মাইশা প্রপার্টি ডেভলপমেন্টের ঋণের স্থিতি ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ৬৬৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইলের ঋণের স্থিতি ৭৭০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ও খেলাপি ৬৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সামান্নাজ সুপার অয়েলের ঋণের স্থিতি এক হাজার ১৩০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ও খেলাপি ৬৫১ কোটি ৭ লাখ টাকা। মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজির ঋণের স্থিতি ও খেলাপির পরিমাণ ৬৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আশিয়ান এডুকেশনের ঋণের স্থিতি ৬৫৩ কোটি টাকা ও খেলাপি ৬৩৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এসএম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৮৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও খেলাপি ৬৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের ঋণের স্থিতি ৮৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এহসান স্টিল রি-রোলিং লিমিটেডের ঋণের স্থিতি ৬২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা ও খেলাপি ৫৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সিদ্দিকী ট্রেডার্সের ঋণের স্থিতি ৬৭০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ও খেলাপি ৫৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে গত এক দশকে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করে লাপাত্তা হয়েছেন চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৩ জন দেশ ছেড়েছেন খেলাপি ঋণের দায় নিয়ে। এসব ব্যবসায়ীদের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অর্থঋণ আদালত ও নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টে তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এর মধ্যে ১১ ব্যবসায়ী বর্তমানে কানাডা, সাতজন যুক্তরাজ্য, চারজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তিনজন মালয়েশিয়া, দুজন তুরস্ক, একজন আরব আমিরাত, একজন অস্ট্রেলিয়া, একজন মন্টেনিগ্রো ও একজন সিঙ্গাপুরে আবাস গড়েছেন বলে জানা গেছে। এসএ গ্রুপের সাহাবুদ্দিন আলম ও তার স্ত্রী, রতনপুর গ্রুপের (আরএসআরএম) মালিক মাকসুদুর রহমান এবং তার দুই ছেলে মিজানুর রহমান ও মারজানুর রহমান, শীতলপুর স্টিলের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক জানে আলম, পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন ও মাহবুব আলমের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। বাদশা গ্রুপের কর্ণধার ইসা বাদশা (মহসিন), মোস্তফা গ্রুপের একাধিক পরিচালক। ইমাম গ্রুপের কর্ণধারের সম্পত্তি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার রায় ঘোষণার পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অনীহায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গত এক বছরে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত প্রায় ২০টি রিসিভার নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন। তবে দেশ ত্যাগ করেছেন শিপ ব্রেকিং ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান লস্কর (মাহিন)। তার কাছে ১০ ব্যাংকের পাওনা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। হাবিব গ্রুপের পাঁচ পরিচালক এবং নূরজাহান গ্রুপ, ক্রিস্টাল গ্রুপ, মিসম্যাক গ্রুপ, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, জাহিদ এন্টারপ্রাইজ, সিঅ্যান্ডএ গ্রুপ, ইফ্ফাত ইন্টারন্যাশনালসহ আরো অন্তত ১০টি শিল্প গ্রুপের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের দায় পরিশোধ না করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।