মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা উৎফুল্ল বিএনপি নিরুদ্বেগ আ. লীগ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এমন তথ্য প্রকাশের পর দেশের রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিষয়টিকে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের কোনো আস্থা না থাকার অংশ হিসেবে দেখছে বিএনপি। এছাড়াও এই বিধিনিষেধ আরোপের ফলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভিসানীতি নিয়ে পরোয়া করি না। আমরা অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করব। তিনি বলেন, ভিসানীতি, নিষেধাজ্ঞা হলে ক্ষতিটা তাদেরই যারা নির্বাচনে বাধা ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। ভিসানীতি বাস্তবায়নের বাস্তবতাটা কী সেটা দেখার বিষয়। আওয়ামী লীগ চায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার এ নিয়ে জনগণের কাছে অঙ্গীকার করেছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভোট দেবে দেশের জনগণ। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। বিদেশিদের পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি তাদের ব্যাপার। এখানে পর্যবেক্ষক পাঠানোর নিয়ম আছে। ভিয়েনা কনভেনশন আছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করতে ক্ষমতার মঞ্চে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপির নির্বাচন হতে দেবে না- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির ইচ্ছাতেই কি নির্বাচন হবে? বিএনপি নির্বাচন চায় না। তারা যদি নির্বাচন বয়কট করতে চায়, করবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ চায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। বিএনপির নির্বাচনে আসাটা তাদের অধিকার। তবে নির্বাচনে না এসে নির্বাচন বিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ভিসা কাকে দেবে বা না দেবে সেটি একান্তই সে দেশের সিদ্ধান্ত। আমেরিকা সরকার কাউকে উদ্দেশ্য করে ভিসা নীতি ঘোষণা করেনি। তারা বলেছে, আগামী নির্বাচনে যারা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করবে বা নির্বাচন ভন্ডুল করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নীতি প্রয়োগ করা হবে। দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফ্রিকার কোনো একটি দেশে গিয়ে বলেছেন, কোনো দেশের উন্নয়ন দেখতে হলে বাংলাদেশে ঘুরে আসুন। কোনো নেতা দেখতে চাইলে শেখ হাসিনাকে দেখে আসুন। বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন,  নির্বাচন নিয়ে যারাই সহিংসতা করবে তারাই আমেরিকার ভিসা নীতির মধ্যে পড়বে। তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  সালমান এফ রহমান বলেন, যারা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাঁধা দেবে তাদের জন্যই আমেরিকার ভিসা নীতি, এটা ভালো। কারণ সরকার বলছে সুষ্ঠু নির্বাচন করবে, আর বিরোধী দল বলছে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হতে দেবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক না পাঠানো প্রসঙ্গে  তিনি বলেন, তারা স্বচ্ছ নির্বাচন চান। আমরাও বলেছি, স্বচ্ছ নির্বাচন করবো। এখন তাদের পর্যবেক্ষক আমাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এলো কি এলো না সেটা তাদের ব্যাপার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ। এর আগে নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ছিল। শেখ হাসিনা সেটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ থেকে সরিয়ে স্বাধীন একটি নির্বাচন কমিশনের রূপ দিয়েছেন। আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বক্স করেছি। শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ বলেন, এটি তো নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র আগেই ভিসা নীতি ঘোষণা করেছিল। আওয়ামী লীগের এটা নিয়ে চিন্তার বা ভয়ের কিছু আছে বলে তো মনে করি না। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না কোনো চাপ আমাদের ওপর আছে। কারণ আমাদেরও একটাই কথা আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। আমরা সেটাই করব।’ শাম্মী আহমেদ আরও বলেন, ‘আমি মনে করি এমন ভিসা নীতি তারা যদি ২০১৪ ও ১৮ সালে দিত, তাহলে বিএনপি দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও করতে পারত না। এমনটা করতে তারা ভয় পেত।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাবি, ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের দায় বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। আর এটি বাংলাদেশের জন্য অসম্মানের বলে মনে করছেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও বিচারকমণ্ডলী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সরকারি দলের লোকজনের বিরুদ্ধে ভিসানীতি কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ ভিসানীতি বাংলাদেশে জন্য সম্মানজনক নয়। কারণ এ ধরনের সমস্যায় বাংলাদেশ পড়ার কথা ছিল না। কেননা, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে, যুদ্ধ করে বাংলাদেশে স্বাধীন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দায়ী উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার, যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে, তারা গত ১৫ বছর ধরে মানুষের অধিকার হরণ করেছে। তাদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন সবকিছু তারা চালিয়ে গেছে। ফলে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মির্জা ফখরুল ২০১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, গত দুটি নির্বাচনে তারা একই কাজ করেছে। এজন্য বর্তমান সরকারের ওপর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো আস্থা রাখা যায় না। সে কারণে আজ বাংলাদেশের ওপর ভিসা নীতি আরোপ করা হয়েছে। এটার জন্য একমাত্র দায়ী সরকার। অন্য কেউ এ জন্য দায়ী নয়। এমনকি যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অন্যায় কাজ করেছেন এবং করছেন তারাও সরকারের নির্দেশে এসব করছেন। আমি মনে করি, ভিসা নীতি দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। ভিসা বিধিনিষেধে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদেরও নাম এসেছে। এ বিষয়ে বিএনপির মনোভাব কী? এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা কীভাবে তারা মিন করেছে তা আমি জানি না। কারণ ১৫-১৬ বছর ধরে বিরোধী দল তো সরকারের হাতে মার খেয়ে গেছে। আর তো কিছুই হয়নি। বিরোধী দলের তো এখানে অন্য কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই, প্রশ্নই ওঠে না।

বাংলাদেশে অফিসিয়ালি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, তাহলে কি এখানে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ভিসা নীতির আওতায় আসছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। তারা বিরোধী দল বলতে কাকে বুঝিয়েছে আমি সেটাও জানি না। কারণ, নামগুলো তো তারা প্রকাশ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এখানে বলাটাও মুশকিল আছে। বিধিনিষেধ আরোপ সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেমন ভূমিকা রাখতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা নিশ্চয়ই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। কারণ, যারা অন্যায়-অত্যাচার করছে, বিশেষ করে আমেরিকাতে যাদের সম্পদ ও পরিবার আছে, ছেলে-মেয়ে আছে, তাদের ওপর তো তার (ভিসা বিধিনিষেধের) একটা প্রভাব পড়বে। বিএনপির বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশ্বও সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। কিন্তু দেশে কাঙ্খিত সেই নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, মামলা ও হয়রানি অব্যাহত আছে।’ তিনি বলেন, ‘এসব দেখে বুঝতে বাকি নেই যে, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী যখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ঠিক তখনই ভিসা নীতি কার্যকরে পদক্ষেপ নেওয়ার খবরটা দিল যুক্তরাষ্ট্র। এর একদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানাল, তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। এসব ঘটনায় এটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে, এই সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের কোনো আস্থা নেই।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশের ৫২ বছরে আমাদের অর্জন আমেরিকার স্যাংশন ও ভিসানীতি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমেরিকায় থাকা অবস্থায় গতকাল (শুক্রবার) ভিসা-নীতির কার্যক্রম চালু করেছে। কেন করেছে? কারণ বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই। ভোটার অধিকার নাই। মানবাধিকার নাই। আর এই কারণে আমেরিকা আগে স্যাংশন দিয়েছিল এখন ভিসা নীতি কার্যক্রম শুরু করেছে। শোনা যাচ্ছে সরকারি দলের দায়িত্বশীল অনেক নেতা, প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা, এবং সচিব পর্যায়ের অনেকেই এই ভিসা নীতির আওতায় পড়েছে। কেন বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিতে আসবে? এটা কোন আনন্দের সংবাদ না।

এদিকে ভিসা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি কীভাবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; বাহিনীর কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব কী হবে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সাথে বর্তমান ও সাবেক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। শুক্রবার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের ওপর মার্কিন ভিসা নীতি দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি না।  তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইমেজের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, এটা এখনই বলা যাবে না।’ পুলিশের সাবেক আরেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি বিধিবিধান মেনে চলে; মানবাধিকার সমুন্নত রেখে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে ভিসা নীতি কোনো সংকট তৈরি করবে না। মানবাধিকারের ব্যাপারে সতর্ক থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। ভিসা নীতির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতির ব্যাপারে বিধিনিষিধের আওতায় থাকবেন এটা বাহিনীর জন্য কতটা অস্বস্তিকর এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদুল হক বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য ভিসা নীতির আওতায় রয়েছেন এমন নয়। বিরোধী রাজনৈতিক সদস্যরাও আছেন। তবে ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় কারা রয়েছেন এই তালিকা আমরা জানি না। ফলে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন বলেছেন, ভিসা নীতির বিধিনিষেধে পুলিশ সদস্যরা ভীত নন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পুলিশ বাহিনীর কতজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বা ভবিষ্যতে যাওয়ার ইচ্ছা রাখেন? এই সংখ্যা খুব অল্প। পুলিশ আইনের ভেতর থেকেই জনগণের জানমাল রক্ষায় কাজ করবে। যেভাবে তারা অতীতে কাজ করেছে। মার্কিন ভিসা নীতি বাহিনীর ভেতরে কোনো বার্তা দেবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যরা যখন কোনো দায়িত্ব পালন করে তা আইনি ফ্রেমওয়ার্কে করার চেষ্টা করে। কোনো সময় এর ব্যত্যয় হলে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভিসা নীতির ব্যাপারে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কাজ করতে হয় আমাদের। আগামীতেও তাই করে যাব।

প্রসঙ্গত, ভিসা নীতি ঘোষণার চার মাসের মাথায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় পড়বে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সেই সঙ্গে থাকবে ভিসা নীতি আরোপ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানান দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু বলেছেন, ‘খুবই সতর্কতার সঙ্গে আমরা তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করেছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি।’ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের সাড়ে তিন মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এর আগেই ভিসা নীতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত দিল বাইডেন প্রশাসন।  বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিলার জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত থাকা বাংলাদেশি ব্যক্তিদের ওপর ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিধিনিষেধ আরোপ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থাকবেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের সদস্যরা। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। যাদের ওপর ভিসা নীতি আরোপ হবে সেই ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে প্রমাণিত হলে আরও ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে এই নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। ভিসা নীতির আওতায় পড়তে পারেন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বিরোধী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার যে প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের সরকারের রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র কখন, কী মানদন্ডে এবং কার ওপর কার্যকর করবে, তা ধারণা করা দুরূহ বিষয়। ভিসা নীতি আরোপ বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের পদক্ষেপের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের যে লক্ষ্য রয়েছে, তাকে সমর্থন করা। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকে যারা এগিয়ে নিতে চায় তাদের সমর্থন করা। এ পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যকে সহায়তা করতে গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি আইনের অধীনে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায় বা জড়িত বলে মনে করা যে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে। এ ভিসা নীতির আওতায় রয়েছেন বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সরকারপন্থি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। গত ৩ মে বাংলাদেশকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন।