বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৯ শিক্ষার্থী গুরুত্বর আহত হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাসভবন, শিক্ষক ক্লাব এবং পরিবহন দফতরে থাকা ৪০টি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন দাবিতে প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, শাটল দুর্ঘটনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় ভিসি দুষছেন রেলওয়েকে, প্রক্টর দুষছেন জামায়াত-শিবিরকে।
মধ্যরাতে ভাঙচুরের পর শুক্রবার সারাদিন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। প্রশাসন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রবিবার ক্লাস-পরীক্ষা চালু হলে শিক্ষার্থীরা আবার বিক্ষোভে নামবে বলেও শোনা যাচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, শাটলের ব্যাপারে আমরা রেলওয়েকে বলতে বলতে শেষ। এমনকি রেলওয়ে মন্ত্রী আমাদের গতবছরই বলেছিলেন ট্রেন দিবেন। আমরা পাইনি। তারা বলেছে তারা চেষ্টা করছে আরও দুই তিনটা বগি বাড়ানোর।
এদিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে চবি উপাচার্য আরও বলেন, আমরা আহতদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তারা যেন ভালো চিকিৎসা পায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে আমরা এটাই চাইব।
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের প্রসঙ্গ টেনে প্রক্টর নুরুল আজিম সিকদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী কুচক্রী জামায়াত-শিবিররা তাদের এজেন্ডা প্রবেশ করিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির একটা ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।
দুর্ঘটনায় আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রক্টর বলেন, আমাদের কারো এটা কাম্য ছিল না। যেটা ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত। যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার আমরা প্রশাসন থেকে বহন করব।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের বটতলী স্টেশন থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রাত সাড়ে ৮টার শাটল ট্রেন হাটহাজারীর চৌধুরীহাট এলাকায় এলে হেলে পড়া গাছের ধাক্কায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বলেন, চৌধুরীহাট এলাকায় রেললাইনের জায়গায় গাছের ডালপালা ঝুলে ছিল। শাটল ট্রেন চৌধুরীহাট পার হওয়ার সময় ছাদে থাকা শিক্ষার্থীরা হেলে পড়া গাছের আঘাতে গুরুতর আহত হন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথা ও মুখ ফেটে যায়। এছাড়া কয়েকজন চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়।
জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত ১৯ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৯ জন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে নেওয়া হয়েছে আইসিইউতে।
এআই