শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাক্ষ্যগ্রহণে অনিয়ম হলে আদালত বর্জনের হুমকি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ড. ইউনূসের পক্ষে আরও ছিলেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, মাননীয় আদালত উনারা যেভাবে লিডিং প্রশ্ন করছেন, তাতে তো বিচার হবেনা। এক কাজ করেন, আমরা চলে যাই একা একা রায় দিয়ে দেন। আমরা কোর্ট বর্জন করবো, উনাদের বসতে বলেন। সংবিধানের আলোকে বিচার করুন মাননীয় আদালত।
তিনি আরও বলেন, এ কেমন বিচার যেখানে সাক্ষীকে সাক্ষ্য শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে। উনারা মিস লিড করেই যাবেন আমরা তা শুনেই যাবো? আর এক লাইন বললে কোর্ট বর্জন করবো।
এ সময় আদালত বলেন, উভয়পক্ষের সহযোগিতা লাগবে। উনাকে উনার সাক্ষ্য নিতে দেন লার্নেড, বললেন বিচারক। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সাক্ষগ্রহণ চলে।
সাক্ষ্যগ্রহণে সাক্ষী বলেন, নোটিশের জবাবেই উনারা তাদের ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন। আমরা ন্যায় বিচার চাই। এরপরে জেরা করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী।
এর আগে, গত ২০ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। তার আগে গত ৬ জুন এ মামলায় বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকার শ্রম আদালত। পরে এ আদেশে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান এবং দুই পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।
২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান। এরমধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এ ছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা হয়।
এমএইচএফ