জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক-সিডিএকে সমন্বয়ের তাগিদ আ.লীগের
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা
টানা চার দিনের বর্ষণে তিনদিন ধরে পানিতে ডুবে আছে চট্টগ্রামের ৫০টির বেশি এলাকা। ডুবেছে বাসা-বাড়িসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা। পানিবন্দি হয়ে আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনসহ লাখ লাখ মানুষ।
জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও নথিপত্র দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান আছে তিন সংস্থার সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পের কাজ । অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে হলেও সময় ও ব্যয় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে একটি প্রকল্পের।
এদিকে, এবারের জলাবদ্ধতা প্রশ্নে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের দুই সেবা সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) একে অপরকে দুষছেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বর্ষার আগে খাল-নালার আবর্জনা অপসারণ করেনি। ফলে দ্রুত বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্ব স্ব এলাকার কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের সাথে সমন্বয় করতে বলা হলেও শুনেনি তাঁরা। যেকারনে জলাবদ্ধতা বলছেন সিটি কর্পোরেশন।
জলাবদ্ধতা নিয়ে দুই সেবা সংস্থার এমন ঠেলাঠেলি বন্ধে এবং পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ সব প্রকল্প বাস্তবায়ন চান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
সোমবার (৭ আগস্ট) যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় চট্টগ্রাম নগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এর সুফল যাতে জনগণ অতি সহসা পায়- সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে মেগা প্রকল্পগুলো যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হয় সে জন্য এখন থেকেই নিজ নিজ দায়বদ্ধতা নিয়ে উভয়কে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
এই প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের ফলে জনগণের প্রাপ্তি ও সুফল অর্জিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি সুরক্ষিত হবে।
দুই সংস্থার প্রধানগণের উদ্দেশ্য তারা বলেন, চসিক ও সিডিএ’র শীর্ষ ব্যক্তিদ্বয় আমাদের দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান সহায়ক শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। সুতরাং পারস্পরিক দোষারোপের বিষয়গুলো এড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। যাতে কোনভাবেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত না হয়।