টানা চারদিনের বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা ও রাস্তাঘাট। বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসা-বাড়ি ছাড়াও ডুবেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। বাদ যায়নি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচলাইশ, কোতোয়ালি, চান্দগাঁও থানা পুলিশও। ফলে যেসব এলাকা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, সেখানে নিয়মিত মোবাইল টিম পরিচালনা করতে পারছে না পুলিশ।
এদিকে, পুলিশের এই পানিবন্দিকে কাজে লাগিয়ে মিটিং-মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামী। পুলিশ বলছে, মোবাইল টিমের গাড়ি নষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে আছে। সেই ফাঁকে তারা মিছিল করে গেছে।
রবিবার (৬ আগস্ট) সকালে জলাবদ্ধতা আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরীর মুরাদপুরে এই বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত। নগর জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের নেতৃত্বে এতে সহস্রাধিক জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী অংশ নেয়।
জানা যায়, কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ আটককৃত সকল নেতাকর্মী ও আলেম ওলামাদের মুক্তি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ সারাদেশে সভা সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার না দেয়ার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলটি হয়।
এর আগে, চট্টগ্রামে সমাবেশ-মিছিল করতে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করলেও কৌশলী জামায়াত পুলিশকে অনেকটা ঘুমে রেখে নির্বাধায় মিটিং-মিছিল করে যাচ্ছে দলটি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, যেহেতু সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। ২ নম্বরের দিকে আমাদের মোবাইল টিম ছিল। রাতের মোবাইল টিমের গাড়িটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে পানিতে। ফলে তারা এখনও আসতে পারেনি। সেই ফাঁকে তারা (জামায়াত) একটু সযোগ পেয়েই সম্ভবত তিন-চার মিনিটের একটি মিছিল করেছে। ২ নম্বর গেটে থাকা মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যেতে যেতেই জামায়াত মিছিল শেষ করে চলে গেছে।
ওসি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘জামায়াত নেতারা এ মিছিলটি কয়টার দিকে করেছে তা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে বুঝা যাবে। আমরা ভেরিফাই করতে পাঠিয়েছি। তবে ধারণা করছি, সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে করে হতে পারে’।
এর আগে, গত ৩০ জুলাই পুলিশকে ‘ঘুমে’ রেখে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাটে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতের নেতারা। শহরের বাইরে সেটি জামায়াতের প্রথম কর্মসূচি ছিল।
তারও ২ দিন আগে অর্থাৎ ২৮ জুলাই (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর নগরীর বাদামতল থেকে মিছিল সহকারে চৌমুহনী পৌঁছে পুলিশের উপর হামলা করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এতে পুলিশের একজন এএসপিসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। ভাঙচুর হয় পুলিশের একটি গাড়িও।
এআই