হিজাব খুলে প্রতিবাদ ইরানি দাবাড়ু পেলেন স্পেনের নাগরিকত্ব

হিজাব না পরেই বিদেশে দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন ইরানের নারী দাবাড়ু সারা খাদেম।

কুর্দি ইরানি ২৬ বছর বয়সী এই দাবাড়ুর পুরো নাম সারাসাদাত খাদেমালশারিয়েহ।  তিনি গত বছর ডিসেম্বরে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত এফআইডিই ওয়ার্ল্ড র‌্যাপিড এবং ব্লিৎজ চেজ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সময় মাথায় হিজাব পরেননি।  যে কারণে তার বিরুদ্ধে দেশে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

ইরানে নারীদের জন্য মাথায় হিজাব পরা বাধ্যতামূলক।  এমনকি দেশটির নারী ক্রীড়াবিদদেরও হিজাব মাথায় রেখেই খেলাধূলায় অংশ নিতে হয়।

গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে মাথায় ঠিকমত হিজাব না পরার কারণে ভাইয়ের সঙ্গে তেহরান যাওয়া কুর্দি তরুণী মাশা আমিনিকে আটক করে দেশটির নীতি পুলিশ।  তিনদিন কোমায় থাকার পর পুলিশি হেফাজতে ২২ বছরের মাশার মৃত্যু হয়।

তার পরিবার থেকে দাবি করা হয়, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ মাশার মাথায় আঘাত করেছিল।  যে কারণে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার জ্ঞান আর ফেরেনি।

মাশার দাফনের দিন তার শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।  যে বিক্ষোভ পরে পুরো ইরান জুড়ে ছড়িয়ে যায় এবং টানা কয়েকমাস ধরে চলে।

বিক্ষোভ দমনে কঠোর হয় ইরান সরকার। নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে প্রাণ হারায় কয়েকশ বিক্ষোভকারী; আটক হয় কয়েক হাজার। তাদের মধ্য থেকে বিচারে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়।

হিজাব কাণ্ডে ইরান যখন উত্তাল ওই সময় বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানাতে সারা হিজাব না পরেই খেলায় অংশ নেন।  এবং এটা নিয়ে তার মধ্যে কোনো ধরণের অনুতাপ নেই বলেও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এই দাবাড়ু।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর স্পেনে চলে যান সারা।

বুধবার (২৬ জুলাই) তাকে নাগরিকত্ব দিয়ে স্পেনে একট সরকারী গেজেট প্রকাশ করা হয়।  সেখানে বলা হয়, ‘বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে’ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) স্পেনের মন্ত্রিসভা খাদেমকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।