মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ডা. সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানিস্যুট মামলা করেছে সেন্ট্রাল হাসপাতাল। ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বৃহস্পতিবার ( ৬ জুলাই) এই মামলা করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেডের সচিব দিদারুল ইসলাম।
ঢাকার প্রথম যুগ্ম জজ আলমগীর আল মামুন মামলার বিবাদী সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। আগামী ২৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন আদালত। গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের সেরেস্তাদার শফিকুল ইসলাম।
মামলায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোম্পানি আইন অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে সেন্ট্রাল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। এই হাসপাতাল শুরু থেকেই সরকারের সব ধরনের আইনকানুন মেনে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। ২০০৭ সাল থেকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে পরামর্শক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে আসছেন ডা. সংযুক্তা সাহা। ডাক্তার সংযুক্তা সাহার একান্ত সহকারী মো. জমীর জুন মাসের প্রথমার্ধে ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তির ফোন ধরেন। ইয়াকুব হচ্ছেন মাহবুবা আক্তারের (আঁখি) স্বামী। মাহবুবা আক্তার ডা. সংযুক্তা সাহার রোগী ছিলেন।
অন্তঃসত্ত্বা মাহবুবা আক্তার গত ১০ জুন সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সংযুক্তা সাহার একান্ত সহকারী জমীর এই রোগীর ভর্তি হওয়ার বিষয়টি সংযুক্তা সাহা মনোনীত চিকিৎসককে জানান। ডা. সংযুক্তা সাহা ১০ জুন দেশত্যাগের আগে মাহবুবা আক্তারের চিকিৎসার বিষয়ে একটি পরিকল্পনা করেন।
সে অনুসারে সংযুক্তা সাহার মনোনীত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই মাহবুবা আক্তারের চিকিৎসা চলছিল। অন্তঃসত্ত্বা মাহবুবার লেবার রুমে চিকিৎসা চলছিল। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়। পরে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে থাকা অবস্থাতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ডা. সংযুক্তা সাহার মনোনীত চিকিৎসক মাকসুদা ফরিদা আক্তার আসেন। এর মধ্যেই মাহবুবা আক্তারের অবস্থা খারাপ হয়।
মামলায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, অস্ত্রোপচারের পর রোগী মাহবুবা আক্তারের নবজাতক মারা যায় ১০ জুন বিকেলে। পরবর্তী সময়ে মাহবুবা আক্তারের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ জুন মারা যান।
পরে ডাক্তার সংযুক্তা সাহা ২০ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে মিথ্যা, আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। পরে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীকালে ২৪ জুন ডা. সংযুক্তা সাহা আবারও সংবাদ সম্মেলন করে সেন্ট্রাল হাসপাতাল সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্তা সাহার বক্তব্য মামলার আরজিতে বাদীপক্ষ তুলে ধরেছে। সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্তা সাহা বলেছিলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কুৎসা ছড়াচ্ছে।