দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি আমানতকারী হিসাবধারীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ৯ মাসে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার ৬৪০টি। এরমধ্যে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবও রয়েছে। প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন তহবিলের অর্থ রয়েছে প্রতিষ্ঠানের আমানত হিসাবে। আর ব্যক্তি আমানতকারীদের হিসাবে রয়েছে ব্যক্তিগত সঞ্চয়। এসব হিসাবে সুদসহ মুনাফা যোগ হওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে কোটিপতির সংখ্যা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। করোনা মহামারি ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে চিড়ে-চ্যাপ্টা সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় ব্যাংকে টাকা জমানোতো দূরের কথা, সংসারের ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতেও দেশের ব্যাংকগুলোতে বেড়ে গে ছে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব ছিল এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫৮৬টি। আলোচ্য ৯ মাসে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব বেড়েছে তিন হাজার ৬৪০টি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবদেন বলছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৫৫৪টি। সেই হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৩২টি। অন্যদিকে শীর্ষ পর্যায়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি এমন সংখ্যা বেড়েছে তুলনামূলক কম। তবে এই হিসাবগুলোর মধ্যে ব্যক্তির সংখ্যা কত, সেই পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে নেই।
ব্যাংকাররা বলছেন, এখানে কোটিপতি ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে প্রতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টই বেশি। গ্রাফিক চিত্র
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ৫০ কোটি টাকার বেশি জমা আছে এমন আমানতের হিসাব গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল এক হাজার ৭৬২টি, গত সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭৮টি। ৪০ কোটি টাকার বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকার কম এমন আমানতকারীর হিসাব গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৫৭৭টি। গত সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭টি।