স্বাগত ২০২৪। আজকের সূর্যের প্রথম কিরণে মানুষ খুঁজে নিক আশাজাগানিয়া আলো। শীতের হিমেল হাওয়ায় উষ্ণতা ছড়িয়ে, কুয়াশা চাদর সরিয়ে নতুন বছরের আলো আজ ছড়িয়ে পড়েছে দিগন্তে। অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় আজকের এই দিনের আলো মনে-প্রাণে আশা জাগাক। দেখাক নতুন স্বপ্ন। শত বাধা ডিঙিয়ে শুভ, সুন্দর জীবনের সন্ধানে জোগাক সাহস। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরটি সবার জীবন থেকে কষ্ট দূর করে দিয়ে আনন্দে, শান্তিতে ভরে তুলুক-এটাই প্রত্যাশা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাক।
বছরের শুরুতেই উৎসবের আমেজ নিয়ে দুয়ারে হাজির হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সবার মধ্যে জাগিয়ে তুলেছে আশা, সম্ভাবনা। নতুন বছর নিয়ে আমাদেরও প্রত্যাশা একটি মুক্ত স্বাধীন শান্তিময় বিশ্ব। অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক, দেশের উন্নয়নের গতি ঠিক থাকুক, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা হোক, পাশাপাশি গণতান্ত্রিক, মানবিক, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন বছরে দেশের উত্তরণ ঘটুক, রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে দেশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক-এটাই নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা।
নববর্ষ সবার মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো জোরদার হোক, সব সংকট দূরীভূত হোক, সব সংকীর্ণতা পরাভূত হোক এবং সবার জীবনে আসুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃন্ধি।
প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব মিলিয়ে আবর্তিত হোক নতুন নতুন স্বপ্ন। নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে চালু হয়েছে পদ্মাসেতু। মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। এর মাঝে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের অর্জন আনন্দে ভাসিয়েছে দেশকে, আশা জাগিয়েছে। তাই সবার প্রতিশ্রুতি হোক শিক্ষার, সচেতনতার ও সুরক্ষার। প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ হোক। শপথ হোক সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার। শপথ হোক মানবিকতার। শপথ হোক মূল্যবোধ জাগরণের। শিশুশ্রম বন্ধ করে তাদের মধ্যে জ্ঞানের আলো প্রজ্বালনের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার শপথ হোক। নবাগতদের বিদ্যালয়মুখী করার, তাদের নানা স্মৃতি ও নতুনত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রত্যয় জেগে উঠুক সবার মধ্যে। বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণ, আর নতুন বছরে বইয়ের নতুন সুভাষ তো প্রতিটি শিশুর অধিকারই। মনে রাখতে হবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের জাঁতাকলে পড়ে শিশুশ্রম দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। আমাদের এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুশ্রম বন্ধ করে তাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসার প্রত্যয় হোক নতুন বছরে। মাদকের বিস্তার বন্ধ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। সমাজ রক্ষায় মাদকবিরোধী সচেতনতা চালাতে হবে। উঠতি বয়সি তরুণদের জন্য নানা উন্নয়নমুখী কর্মশালার আয়োজন করতে হবে। তাদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মাদক যেন আর তরুণদের গ্রাস করতে না পারে, সে বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে সবাইকে। সচেতনতার মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হোক—নতুন বছরের প্রত্যয় হোক এটাই।
ডিজিটাল সময়ের কঠিন ছকে বাঁধা পড়েছি আমরা। প্রযুক্তির অপব্যবহার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে লোমহর্ষক সব অপরাধ বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় প্রযুক্তির আশীর্বাদ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রযুক্তির অভিশাপ বন্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সমাজকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। সমাজের সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে আমাদেরই। নতুন বছরে এগিয়ে যাক সমাজ। নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাক দেশ। নতুন আঙ্গিকে শুরু হোক নবজীবনের জয়যাত্রা-নতুন বছরে প্রত্যাশা এটাই।