সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই ইবির ৭ হলে

প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও এখন পর্যন্ত এসব হলে কোন প্রকার নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পানি পান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হলের টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সুপেয় ও নিরাপদ পানির সংকট দীর্ঘ দিন ধরে। তবে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্যসম্মত পানির জন্য প্ল্যান্ট ও ফিল্টার স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হল। অন্যদিকে বাকি হলগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালন শাহ হলের দুইটি ব্লকে প্রতিটি ফ্লোরে দু’টি করে মোট আটটি পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে হল প্রশাসন। প্রতিটি প্ল্যান্টের পানির ধারণক্ষমতা প্রায় ২০০ লিটার। এ পানি ফিল্টারিং এর জন্য স্থাপন করা হয়েছে প্রতিটি ফ্লোরে ১টি করে মোট ৪টি ফিল্টার। এতে ব্যয় হয়েছে দেড় লক্ষ টাকার অধিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আটটি আবাসিক হল রয়েছে। ছেলেদের জন্য ৫টি এবং মেয়েদের ৩টি। প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও এখন পর্যন্ত এসব হলে কোন প্রকার নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পানি পান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হলের টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। অনিরাপদ, আয়রন ও আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখামুখি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েলের পানি পান করতে হচ্ছে। রান্নার কাজে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে ট্যাঙ্কের পানি। যা সাধারণত তারা গোসলের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ পানির ট্যাঙ্কও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে এ পানিতেও দেখা মেলে শ্যাওলা, ধুলাবালি, গাছের পাতা, আবর্জনাসহ নানা ধরনের বিষাক্ত পদার্থ। তাছাড়া মাঝে মাঝে ট্যাপে কালো দুর্গন্ধ যুক্ত পানি আসে। এসব পানি ব্যবহার করে চর্মরোগসহ নানা শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও হলগুলোর প্রতিটি ফ্লোরে পানির প্ল্যান্টের ব্যবস্থা না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ ফ্লোরের শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এত উপর থেকে টিউবওয়েলর পানি সংগ্রহ করা অনেক কষ্টকর বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সতেজ পানি সংগ্রহ করতে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনে একবার পানি নিয়ে আসা হলেও তা সতেজ থাকছে না। তাছাড়া দিনে দুই থেকে তিনবার পানি নিয়ে আসতে ওঠানামা করা অনেক কষ্টকর। এ দুর্ভোগ দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও হলের প্রতিটি ফ্লোরে পানি ফিল্টার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি বলেন, আমাদের হলে সুপেয় পানির সংকটের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। বিশেষ করে প্রতিটি ফ্লোরে এ পানির ব্যবস্থা না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ তলার শিক্ষার্থীরা বেশি দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা রান্নার কাজেও এসব পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি। এদিকে বিভিন্ন সময় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করলেও কোন সুফল পায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনেকবার স্মারকলিপিও দিয়েছিল। তবে এতে হল প্রাধ্যক্ষরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে লালন শাহ হলের এমন সিদ্ধান্তকে সাবুধাদ জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি বাকি হলগুলোতে এমন ফিল্টার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হোক। জিয়া হলের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের বলেন, আমরা চাই আমাদের হলেও বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হোক। যাতে আমাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছি। এর মধ্যে পানির ধারণের জন্য ৮টি ট্যাঙ্ক ও ফিল্টারিং এর জন্য ৪টি ফিল্টারের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের এ কাজ থেকে যেন অন্য হলগুলোও উদ্বুদ্ধ হয় সেজন্য প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এদিকে খুব দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলে এমন নিরাপদ পানির সুবিধা চালু করার কথা জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা। তিনি বলেন, আমি ওই হলের কার্যক্রমের বিষয়টি শুনেছি। আরও খোঁজ খবর নিয়ে যদি সাশ্রয়ী হয় তাহলে অবশ্যই এটা খুব দ্রুত সকল হলে  চালু করার চেষ্টা করবো।