সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যাপক আয়োজনে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মার্চেন্ট ওয়ার্কারস (এম ডব্লিউ) উচ্চ বিদ্যালয়ে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন পিঠা উৎসব ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের এ মিলন মেলায় শিক্ষার্থীদের হাতে বানানো পিঠা খেয়ে এবং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের পুরষ্কৃত করেন। রবিবার (০৪ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে চলে এই পিঠা উৎসব।

এদিন সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের মাঠে বিভিন্ন ঐতিহ্যগত নামে বিভিন্ন শ্রেণী ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্টলগুলো বাহারি রঙ্গে সেজে উঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৃথক পৃথক বুথে নানা রকম পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে রাখা আছে। এর মধ্যে কতিপয় পিঠা একেবারেই নতুন আবার কিছু অতিপরিচিত। প্রতিটা পিঠার ওপরে লেখা আছে পরিচিতি নাম। এসব পিঠার নামও বেশ বাহারি। শিশুরা বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘুরে দেখছেন স্টল। জানছেন নতুন নতুন পিঠা সম্পর্কে। স্কুলের আরেক পাশে চলছে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন। সেখানে স্কুলের কচিকাঁচা শিক্ষার্থীরাই দেখাচ্ছেন নৃত্য, শোনাচ্ছেন মত মাতানো গান। পুরো স্কুল মাঠ রূপ নিয়েছে অনিন্দ্য মিলনমেলায়। পিঠা উৎসবে ৪৮টি পৃথক স্টলে ছিল ভাপাপুলি, দুধপুলি, পুলি, ঝিনুক, পাটিসাপটা, জামাই সোহাগী, গোলাপ, চিতই, কানমুচরি, পায়েস, পুডিং, তেল পিঠা, দুধ চিতই, ফুল পিঠা, ক্ষির, মুঠা পিঠা, রস গোলাপ ও কেকসহ দুই শতাধিক পিঠাপুলি। বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্কুল ড্রেস এবং প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা রঙ-বেরঙয়ের জামা-কাপড় পড়ে স্টলে আসতে শুরু করে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেচে-গেয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এসময় বিদ্যালয়ের বাহিরে এবং মাঠ প্রাঙ্গণের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এই মিলন মেলা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা গ্রুপ ভিত্তিক আলাদা-আলাদা স্টল স্থাপন করেন। স্টলগুলোতে সাজানো হয় শিক্ষার্থীদের হাতে বানানো দুইশত ধরনের পিঠা। রকমারি নানা পিঠা নজর কাড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের। অতিথি ও শিক্ষকরা ঘুরে ঘুরে স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং পিঠা খেয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দিত করেন।

এম ডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক লিপি আকতার বলেন, নতুন প্রজন্মকে বাঙালীর লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় বড় করে তুলতে হবে। নিজ জাতির সংস্কৃতি জানলেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের প্রতিটি শিশু সফল হবে। তারাই দেশকে সফল করবে। তিনি বলেন, বাঙালীর একটি অত্যন্ত মূল্যবান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এটা প্রজন্মের প্রতিটি শিশুকে জানাতে হবে।

এদিকে পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি, নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিদ্যালয়ের গর্ভনিং বডির সভাপতি মতিউর রহমান মতি।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো: ইউনুছ ফারুকী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা আকতার, দাতা সদস্য সাব্বির আহাম্মদ প্রধান, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. মোশারেফ হোসেন, মো. মহসিন হোসেন, জহিরুল ইসলাম, শারমিন আক্তার সুমি, শিক্ষক প্রতিনিধি লিপি আক্তার, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।