সাহিত্য-সাংবাদিকতার অনন্য পথিকৃৎ মিঠুন সিদ্দিকীর জন্মদিন কাল

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও শিক্ষক মিঠুন সিদ্দিকীর জন্মদিন আজ। বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগতে তাঁর অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে এবং তার সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও ছাত্রছাত্রীরা তাকে স্মরণ করছেন।

কয়েক দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মিঠুন সিদ্দিকী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের অসংগতিগুলো তুলে ধরেছেন এবং তাঁর নির্মোহ লেখনী বাংলা সাহিত্য জগতকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি একাধারে একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক, গুণী লেখক এবং আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর সহজ-সরল অথচ প্রাঞ্জল ভাষা পাঠক হৃদয়ে সহজেই দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে।

সাংবাদিকতায় তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল কিশোর মানস পত্রিকায় কলাম লেখার মধ্য দিয়ে। কয়েক দশক আগে। সরাসরি পেশাদরিত্বে থেকে কাজ না করলেও তিনি সাংবাদিকতার নানা ধারা অতিক্রম করেছেন। তাঁর সম্পাদিত বিশেষ প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা সমাজে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর কর্মপন্থা ছিল প্রগতিশীল ও যুক্তিনির্ভর। সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ প্রয়াত ইকবাল সিদ্দিকীর একান্ত সহকারী এবং কম্পোজার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি জীবনের মূল ভিত্তি সৃষ্টি কর৯ন।

তার প্রকাশিত রচনার মধ্যে রয়েছে বাস্তবধর্মী তথ্যভিত্তিক এবং করণীয় সম্বন্ধে বিশেষ ধারণা।। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে গ্রামীণ জনপদের জীবনচিত্র, শহরের জটিলতা এবং মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। পাশাপাশি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন; তার অসংখ্য ছাত্র আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত। মূলত প্রজন্মের জন্যই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করে তুলেছেন।

একটি প্রজন্মের দায়বদ্ধতার কথা
মিঠুন সিদ্দিকীর জন্মদিনে তাঁর নিজের ভাষ্যে উঠে এসেছে জাতি গঠনের এক অনন্য দর্শন। তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার পরবর্তী প্রজন্মকে ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চলছে। তার ভাষ্যমতে, স্বাধীনতার স্বাদ ও বিজয়ের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মকে উপলব্ধি করতে না দেওয়াটা একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ‘অমেরুদন্ডী প্রাণীর গোত্রভুক্ত’ করার দুরভিসন্ধিমূলক আচরণ। তিনি বলেন, “আমরা না হয় গেছি শেষ হয়ে। প্রজন্মের সাথে প্রতারণামূলক আচরণ করে নিজেদের ভদ্রবেশি -ছদ্মবেশী অগ্রজ হিসেবে পরিচয় করছি। আমরা সম্মানিত জাতি। অগ্রজদের অসম্মানের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে আমার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে…”

তিনি তাঁর প্রয়াত বড় ভাই ইকবাল সিদ্দীকীর নির্দেশ ও আদেশকে সামনে রেখে বলেন, মানবিক ও সচেতন নাগরিকের উত্থান জরুরি। “…একজন প্রেমিকের মতো যোদ্ধাবেশি নাগরিকের উত্থান হতেই হবে। ধান্দাবাজী আর চাপাবাজি বহুত হয়েছে। এবার মানবিক হবার সময়। কেউ না আসুক। অসভ্য ভীতুর দেশে এইসব লড়াই একাই করতে হয়।” এই অকপট উচ্চারণে ধরা পড়েছে তাঁর নিজের প্রতি, তাঁর প্রজন্মের প্রতি এবং ভবিষ্যতের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা।

মিঠুন সিদ্দিকীর জন্মদিন উপলক্ষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন তার পরিবার, বন্ধু-স্বজন ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ পাঠক।