গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়কে ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রী—বিশেষ করে বালুর স্তূপ—পরিণত হয়েছে প্রাণঘাতী ফাঁদে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে এমনই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক নারী শ্রমিক, আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১২ জন।
ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়কের টেপিরবাড়ী বাজার এলাকায়। নিহত নারী শ্রমিকের নাম নমীতা। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন নমীতার স্বামী, লেগুনার চালক জুয়েল, যিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাতখামাইর এলাকা থেকে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক একটি লেগুনায় করে কর্মস্থল গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল কারখানায় যাচ্ছিলেন। পথে টেপিরবাড়ী বাজার এলাকায় সড়কের মাঝখানে ফেলে রাখা বালুর কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। ফলে লেগুনাটি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়।
দায়িত্বহীনভাবে সড়কে বালু ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে কাপাসিয়া থানার আমরাইদ এলাকার বাসিন্দা অলিউল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তিনি টেপিরবাড়ী এলাকায় নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য রাস্তার অর্ধেক জায়গা দখল করে বালু মজুদ করেন। তার স্ত্রী বৃষ্টিও এ বিষয়ে দায় স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, বালু সরাতে গেলে এলাকার কিছু লোক চাঁদা দাবি করায় তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক অবহেলা নয়, বরং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ ও হত্যার সামিল। ঘটনার আগের দিন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই স্থানে আরেকটি সিএনজি দুর্ঘটনায় পাঁচজন আহত হন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো. বাবুল মিয়া।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুস বলেন, “সড়কে বালু ফেলার কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেগুনাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী নিহত হন এবং অন্তত ১২ জন আহত হন।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক জানান, “নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। লেগুনাটি থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এমন গাফিলতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতেও সড়কে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।