যেসব মন্ত্রণালয়ে আসতে পারে নতুন মুখ

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আরও পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এতে আবারও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য কারা হচ্ছেন, তা নিয়ে নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হবে। দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, সবশেষ ৪৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা থেকে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। বয়স, নানা বিতর্ক বা অদক্ষতার দায়ে তারা ঝরে পড়তে পারেন। এরমধ্যে টানা তিন মেয়াদে মন্ত্রিসভায় আছেন- এমন বর্ষীয়ান নেতাও ছিটকে যেতে পারেন। এর বাইরে সর্বশেষ মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য নিজ আসন থেকে জিততেও পারেননি। এছাড়া তিনজন দলের মনোনয়নপত্রই পাননি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ও বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী স্বতন্ত্রদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এই তিন মন্ত্রণালয়ে এবার নতুন মুখ আসতে চলেছে। এছাড়া এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এই তিন মন্ত্রণালয়েও আসছে নতুন মুখ। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রদবদল ও নতুন মুখ আসতে পারে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন- এমন বেশ কজন নতুন মুখ থাকতে পারেন এবার মন্ত্রিসভায়। এরমধ্যে একাধিক সাবেক আমলার নামও রয়েছে আলোচনায়। এছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভায় থাকা কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদোন্নতি হতে পারে- এমনটিও আলোচনায় রয়েছে। সূত্র বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তরুণদের মধ্যে যোগ হতে পারেন ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় আবারও মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। জামালপুর-৫ (সদর) আসনের এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং নড়াইল-২ আসনের এমপি ও ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকেও মন্ত্রী বানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। বুধবার বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৯৮ জনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। দ্বাদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন আজ বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকালে। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট হয়। নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনের নির্বাচনের জন্য নতুন করে শিডিউল দেয়া হয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। আর সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ-৩ আসনের ফলাফল স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল। সেই নির্বাচন এ মাসের ১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ২৯৮ আসনের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২২২ আসন ও জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের হার এবার বেশি। তারা ৬২টি আসনে জয় পেয়েছেন। আর মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে একটি করে আসন পেয়েছেন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমও কক্সবাজারের একটি আসন থেকে জয় পেয়েছেন। নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।