মোসাদের সাথে নুরের বৈঠক কী বার্তা দিচ্ছে

শত কোটি টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ভেঙ্গে গেলো রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ। কোন রাজনৈতিক দলের অর্থকড়ি নিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার খবরে রাজনীতিতে মুখরোচক নানা কথার ফুলঝুরি এখন। দলটির দুই শীর্ষ নেতা ভিপি নুর ও রেজা কিবরিয়া। উভয়ে অর্থ কেলেংকারির জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছেন এখন। শুধু অর্থ কেলেংকারি নয়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে ভিপি নুর কাতার, দুবাই ও ভারতে তিন দফা বৈঠক করার কথা ফাঁস করে দেন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদুত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান । আর লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে রেজা কিবরিয়ার বৈঠক হওয়ার কথা ফাঁস করে দেন ভিপি নুর। ঘটনার এখানেই কিন্তু শেষ নয়, এ ঘটনা দেশের বিরুদ্ধে জঘন্য ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করছেন কেউ কেউ।

গণঅধিকার পরিষদ সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের জোটের শরীক দল হয়। বিএনপির আন্দোলনের জোটসঙ্গী সবাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজপথে লড়াই করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু মোসাদ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গণতন্ত্র বিরোধী, খুন, হত্যা পরিচালনার একটি বিষাক্ত গোয়েন্দা সংস্থা। আমেরিকার সিআইএ’র মতো শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা। ভিপি নুর এ জঘন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠক করে বাংলাদেশকে কোন তিমিরে নিয়ে যেতে চাচ্ছে তাই আজকে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, যে ইসরায়েলের সাথে বাংলাদেশের কোন কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই, যারা শান্তিপ্রিয় ফিলিস্তিনে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে এবং তাদের বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ করে উদ্বাস্তু বানিয়েছে, সেই ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নুরুল হক নুর বৈঠক করে কি বার্তা দিতে চাচ্ছেন এদেশের মানুষকে।

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত জানান, নুরের সঙ্গে কাতার, দুবাই ও ভারতে তিন দফা বৈঠক হয়েছে মোসাদের। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমরা বৈঠকের ছবি পেয়েছি। কাতার বিশ্বকাপের সময় (২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত) বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।

রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান বলেন, মোসাদের সঙ্গে তার (নুর) বৈঠকের বিষয়ে তিনি যদি অস্বীকার করে থাকেন, তা ফিলিস্তিনের জন্য ভালো। তবে বিষয়টি সত্য হলে এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরায়েল থেকে টাকা নেওয়া মানুষ কখনো নেতা হতে পারে না। এ ধরনের নেতা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তবে রাষ্ট্রদুতের বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন ভিপি নুর। এ বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভিপি নূরকে বিদেশ থেকে দেশে আনার জন্য বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, এমনকি জাতীয় সংসদেও ভিপি নুরের দেশ বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য বিচারের দাবি উঠেছিল।

প্রতিষ্ঠার এত অল্প সময়ের মধ্যেই যে দলটির ভাঙন হবে তা অনেকেই আশা করেননি। কিন্তু কেন ঘটল নুরের দলের ভাঙন। গণঅধিকার পরিষদ বা ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরের রাজনৈতিক উত্থান যেমন ত্বরিৎ, তেমনি নাটকীয়তায় ভরা। তেমনি এই দলের ভাঙনও অনেক নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে এমন কিছু নিশ্চিত তথ্য এসেছে যেখান থেকে প্রমাণ হয় যে নুর এবং রেজা কিবরিয়া আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন সূত্র থেকে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন এবং একে অন্যের কাছে অর্থ প্রাপ্তির কথা গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু তৃতীয় মাধ্যমের দ্বারা তারা দুজনই জানতে পারে যে, তারা দুইজনই গোপনে টাকা নিয়েছেন।

সূত্রের দাবি, রেজা কিবরিয়া প্রথমে নুরের অর্থ গ্রহণের তথ্য জানতে পারেন এবং এ সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য তার কাছে আসে। প্রথমত নুর প্রবাসে গণ অধিকার পরিষদের বিভিন্ন কমিটি গঠন করতে গিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশে যারা গণ অধিকার পরিষদে যোগ দিয়েছে তারা রেজা কবরিয়াকে এই তথ্য জানান। এ সময় রেজা কিবরিয়া কিছু কিছু কমিটির ব্যাপারে আপত্তি প্রকাশ করলে নুর এবং রাশেদ তাকে পাত্তা দেননি। এর ফলে রেজা কিবরিয়া বুঝতে পারেন যে টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরপর নুর বিদেশ সফরে গিয়ে মোসাদের একজন প্রতিনিধি সাথে দেখা করেন।

প্রসঙ্গত নুর যখন দেশে ফিরে বিমানবন্দরে আসেন, তখন তাকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। বিষয়টি সরকার শেষ পর্যন্ত এড়িয়ে গেলেও রেজা কিবরিয়া বিষয়টি এড়াতে পারেননি। বরং তিনি এ নিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেন এবং নিশ্চিত হন যে, মোসাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি। এ নিয়ে তিনি সরাসরি ভিপি নূরকে প্রশ্ন করেন। কিন্তু নুর এর কোন সঠিক সদুত্তর দিতে পারেননি। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ ধারণ করে।

এদিকে রেজা কিবরিয়া লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার সাথে দেখা করেছেন এমন নিশ্চিত তথ্য পেয়েছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর। রেজা কিবরিয়াকে সরকার বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করা, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সরকারকে কোণঠাসা করার জন্য নানা রকম প্রস্তাব দিয়েছিলেন লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া। তারেক জিয়ার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রেজা কবরিয়া কাজ শুরু করেছিলেন বাংলাদেশে। যে প্রেক্ষাপট এবং বাস্তবতায় রেজা কিবরিয়াকে অনেকটাই বিএনপি’র নেতার মত মনে হচ্ছিল। তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনার চেয়ে বিএনপি’র প্রশংসায় বেশি ব্যস্ত ছিলেন। এ নিয়ে নুরের দলে মধ্যে আলোচনা হয় এবং নুর নিজস্ব উদ্যোগে খবর নিয়ে জানতে পারেন যে, আসলে রেজা কিবরিয়া এখন তারেকের পুতুলে পরিণত হয়েছেন এবং তারেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তিনি এসব কাজ করছেন। যখন এই অর্থের বিষয়টি রেজা কিবরিয়ার কাছে নূর উত্থাপন করেন, তখন সেটি নাকচ করে দেন রেজা কিবরিয়া।

গণ অধিকার পরিষদের বিভিন্ন নেতারাও বলছেন যে, অন্তত ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নুর এবং রেজা কিবরিয়া। আর এই ১০০ কোটি টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়েই তাদের মধ্যে এখন বিরোধ।

জানা যায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক বৈঠকে মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে নুরুল হক নুরের বৈঠক নিয়ে তার রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে নুরের অনুগত কয়েকজন দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার দিকে তেড়ে যান। আলোচনার এক পর্যায়ে রেজা কিবরিয়া নুরুল হক নুরের ইসরায়েলি এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এসব নিয়ে বৈঠকের পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর আরও কয়েকজন নেতা নুরের টাকার লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রেজা-নুর দ্বন্দ্বে দলের ভাঙন

মাত্র দেড় বছর আগে আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ। যার আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্যসচিব নুরুল হক নুর। এই সময়ে দলটি বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে শামিল হয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনের মুখে পড়েছে গণঅধিকার পরিষদ। স্পষ্ট বিরোধ তৈরি হয়েছে রেজা কিবরিয়া ও নুরের মধ্যে। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দুজনকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

নুরের বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছেন রেজা কিবরিয়া। তবে নুর বলছেন, বিএনপির সাথে সম্পর্ক নষ্ট করার অভিযোগ তোলায় তিনি এমন আচরণ করছেন।

রেজা কিবরিয়ার অভিযোগ, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে নুরের কি সম্পর্ক এবং দলের নামে বিদেশ থেকে আসা টাকার হিসাব চাইতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নুর। দলের ভেতর স্বচ্ছতা থাকুক তা চায় না নূর। নুর দলকে টাকা কামানোর হাতিয়ার বানাতে চায় বলে অভিযোগ রেজা কিবরিয়ার।

নুরের দাবি, শুরু থেকেই রেজা কিবরিয়া দলে নিস্ক্রিয়। ক্ষমতার লোভে তিনি বিএনপি ভাঙার চক্রান্ত করছেন। আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং মোসাদের সাথে যোগাযোগের বিষয়ও অস্বীকার করেন তিনি।

যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করেছেন নুর। আর নুরকে সদস্যসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া।
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর গত বছরের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়েছিলেন; তখনই তার সঙ্গে মোসাদের এজেন্টের দেখা হয়েছিল বলে সোশাল মিডিয়ায় খবর আসে। তবে নুরু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত অভিযোগ তোলার পর রাতে নুর ফেইসবুকে এসে বলেন, এটা একেবারেই ‘ভিত্তিহীন, অবাস্তব, অসত্য’। তার দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকায় গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে যে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে, এটা তারই অংশ।

“ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের কাছে যদি তিন দেশে বৈঠকের তথ্য থাকে, এতই তথ্য প্রমাণ যদি থাকে, তাহলে সাত মাস তারা কি ঘুমিয়ে ছিল?” মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রমাণ যদি থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করার দাবি জানান নুর।

উল্লেখ্য, ডাকসুর ভিপি হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপর হয়ে ওঠা নুর ২০২১ সালের অক্টোবরে গণফোরাম ছেড়ে আসা রেজা কিবরিয়াকে সামনে রেখে গণঅধিকার পরিষদ নামে রাজনৈতিক দলটি গড়ার ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি ফরহাদ মজহারদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইনসাফ কায়েম কমিটির অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন নুররা। তার পাল্টা নুরুল হক নুরকে সরিয়ে হাসান আল মামুনকে দলের সদস্য সচিব করার ঘোষণা দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া।

দুই পক্ষের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই মোসাদের সঙ্গে নুরের বৈঠকের প্রসঙ্গ আলোচনায় আনেন গণপরিষদ অধিকারের আহ্বায়ক।

নূরকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যের সঙ্গে গোপন বৈঠকে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ।

গত ৮ জানুয়ারি রবিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এসময় নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান সংগঠনটির নেতারা।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন মজুমদারসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার নেতারা।

সভাপতির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সংবাদমাধ্যমে নুরুল হক নুরের কথোপকথন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি মেন্দি এন সাফাদের সাথে বৈঠক করেছেন। নুর বিভিন্ন সময় ধর্মীয় লেবাস নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলে থাকেন, ইসলামের স্বপক্ষে অনেক কথা বলেন। তিনি কীভাবে ইসরায়েলের মতো একটা দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন, তার অবস্থান সম্পর্কে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে। আমরা বিশ্বাস করি নুর মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ সরকারের উৎঘাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে অনতিবিলম্বে নুরকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার শাস্তি নিশ্চিত করা।

সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, যারা ফিলিস্তিনে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে সেই ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নুরুল হক নুর বৈঠক করে এদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে, কিন্তু আমাদের দেশের ইসলামপন্থী কোনো দল এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি। এ থেকে প্রমাণিত হয় এদেশের তথাকথিত ইসলামি দলগুলো ইসরায়েলের টাকায়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়।

ধর্মকে ব্যবহার করে, দেশের মানুষের আবেগকে পুঁজি করে যারা ধর্মের নামে অপরাজনীতি করে তাদের রুখে দেওয়ার এখনি সময়।

‘মোসাদ সদস্যের সঙ্গে ভিপি নুরের বৈঠকের’ তদন্ত দাবি সংসদে

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যের সঙ্গে ভিপি নুরের বৈঠকের যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্তের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। ৯ জানুয়ারি সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাতীয় পাটির সদস্য পীর ফজলুর রহমান এ দাবি করেন।

পীর ফজলুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, দুবাইয়ে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করেছে নতুন দল গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর। পত্রিকায়ও খবর প্রকাশ হয়েছে। সে ডাকসুর ভিপি ছিল। হাসিমুখে মোসাদের সদস্যের সঙ্গে ছবিও এসেছে। নুর বলেছিল এটি তার এডিট করা ছবি। পরে অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফারদের দিয়ে সেটা দেখানো হয়, তখন দেখা যায় সেটি এডিট করা নয়, এটা অরিজিনাল ছবি। আবার এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি- সে বলছে আমি কথা বলেছি, তাই কী হয়েছে। আমি কি কারো সঙ্গে কথা বলতে পারি না, আমি কারো সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে কেন। এটা পত্রিকায়ও হয় তো আসবে।

তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমরা এ সংসদে ফিলিস্তিনি নর-নারী, শিশু হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। সে কারো সঙ্গে বৈঠক করতেই পারে। সে সরকারকে পছন্দ না করতেই পারে। কিন্তু যে দেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, যে ইসরাইল ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী-শিশুকে হত্যা করছে, আমরা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেই দেশের গোয়েন্দা সদস্যের সঙ্গে তা আইনসম্মত নয়।

‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব- এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্ত করে সংসদে ৩০০ বিধিতে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।’

পরে এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ বলেন, এখানে ভিপি নুরের কথা এসেছে। ভিপি নুর আমি মনে করি একটা সন্ত্রাসের নাম।

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে সমাবেশ করে। আমরা অবাক হয়ে যাই। এখানে তালেবানি রাষ্ট্র বানানোর সুযোগ আমরা কাউকে দেব না। বিএনপি এখন তলানিতে চলে গেছে। তাই তারা মরার আগে বিএনপিকে তাজা করতে চায়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমরা তো কারো কাছে পরাজয় মানতে পারি না। আমরা একসঙ্গে থাকলে কেউ দেশের ক্ষতি করতে পারবে না।

এমএইচএফ