মেধাবী জাতি গঠনে সুস্থ শিক্ষার্থীর বিকল্প নেই : মেয়র ডা. শাহাদাত
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় চসিকের উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে চালু করেছে স্কুল হেলথ ক্লিনিক ও হেলথ কার্ড কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে মেধাবী ও কর্মক্ষম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পাথরঘাটা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কা্র্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. বলেন, “সুস্থ শিক্ষার্থী ছাড়া মেধাবী ও শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধমূলক সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তা বড় জটিলতায় রূপ নেয়, যার প্রভাব পড়ে পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশে। স্কুলভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা চালু হলে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, “পর্যায়ক্রমে নগরীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী একটি সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষাজীবন পায়।”
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, স্কুল পর্যায়ে স্বাস্থ্য নজরদারি চালু থাকলে অপুষ্টি, দৃষ্টিজনিত সমস্যা, দাঁতের রোগ, ত্বকের সংক্রমণসহ নানা সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতি কমে যায় এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, ডা. হোসনে আরা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু তালেব বেলাল এবং স্কুল হেলথ কার্ড পরিচালনা কমিটির সদস্য ইমরানুল হক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, সুকুমার দেবনাথ, অধ্যক্ষ মাহাফুজুর রহমান ও অধ্যক্ষ শাহেদুল কবির চৌধুরীসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হেলথ কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অভিভাবকমহলও উপকৃত হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্কুলভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। – সৌধ/ইমন/চট্টগ্রাম