চট্টগ্রামের মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১২ বছর আজ। সেই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা আজও মিরসরাইবাসীর মনকে ব্যথিত করে তোলে। এ ঘটনার ১২ বছর হয়ে গেলেও স্মৃতি যেন এতটুকু পরিমাণ মুছে যায়নি। ১১ গ্রামের স্বজনহারা শোকার্ত মানুষের কান্নাও থামেনি।
এ ১২ বছরকে ১২ দিনের চেয়েও কম মনে হয় সন্তান হারানো মা কোহিনুর বেগমের। তিনি ট্রাজেডিতে নিহত রায়হান উদ্দিনের মা। তিনি বলেন, ‘আমার এখনো বিশ্বাস হয় না আমার ছেলে নেই। এইতো সেদিন রায়হান খেলা দেখতে বের হয়েছিল, সে ফিরে আসবে।’
সেদিনের ঘটনা থেকে একমাত্র সন্তানের চিন্তায় এখন রোগাগ্রস্ত মায়ানী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুদ্দুস মাস্টার বাড়ির প্রবাস ফেরত আবু রিদোয়ান। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন বাবা আবু রিদোয়ান।
তিনি বলেন, সেদিন দুপুর বেলা নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হতেই মোবাইলে কল বেজে উঠে। অপরপ্রান্ত থেকে কেউ একজন বলে উঠে সুজন স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়েছিলো, ফেরার পথে একটি ট্রাক ডোবায় পড়েছে। তখনই ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। মসজিদ থেকে বের হয়ে ছুটছি সামনের দিকে। ঘটনাস্থল, হাসপাতাল, থানা কোথাও না পেয়ে হতাশ হয়ে ছুটছি দিকবিদিক। পরে খবর পেলাম আমার ছেলে বাড়ি ফিরেছে। তবে জীবিত নয় মৃত।
তিনি আরও বলেন, একটি মাত্র সন্তান ছিলো আমার। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১১ জুলাই। পঞ্জিকার এই দাগকাটা দিনে সারাদেশকে শোকস্তব্ধ করে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় একটি মিনি ট্রাক উল্টে ৪০ জন স্কুল ছাত্রসহ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ওইদিন মিরসরাই স্টেডিয়ামে ছিল বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা। খেলায় অংশ নিয়েছিল মায়ানী ইউনিয়নের আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মঘাদিয়া ইউনিয়নের আঞ্জুমুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
২-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিজয় মিছিল নিয়ে মিনি ট্রাকে চড়ে হৈ-হুল্লোড় করতে করতে বাড়ি ফেরার পথে স্মরণকালের মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১জন ছাত্র। এছাড়া প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২জন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসায় ২জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন, আবুতোরাব এস এম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২জন, ক্রীড়ামোদী ২জন যুবক, ২ কিশোর, ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী একছাত্রের বাবা।
এমএইচএফ