মামলার পর মামলা দিয়ে জায়গা দখলের ফাঁদ!

লিপি নাথ (৪০) একজন গৃহবধূ। ২ সন্তানের জননী লিপি নাথ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বুলবুল চন্দ্র নাথের মেয়ে। ওই এলাকায় নিজের দুই বোনসহ নিকট আত্মীয় ৪ বোন মিলে সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনেন এক ঘণ্টা তিন কড়া পরিমাণ জমি। কিন্তু বিধিবাম, ওই জমির ওপর নগ্ন চোখ ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সন্তোষ কুমার দেওয়ানজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। যেখানে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, এমন কি মামলা পর মামলা দিয়ে স্বজনদের হয়রানী, পাশাপাশি আদালত ও পুলিশের নির্দেশনা আমলে না নিয়ে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছের বলে অভিযোগ তোলেছেন ভুক্তভোগী লিপি নাথ। আইন আদালতের আশ্রয় নিয়েও নিজেদের কেনাা জমি বাঁচাতে পারছে না সন্তোষ কুমার দেওয়ানজীর হাত থেকে। প্রতিনিয়ত থানা পুলিশ ও আদালতের আইনজীবীর কাছে ধর্না দিয়েও কোনোভাবে রেহাই মিলছে না তাদের। তবে অভিযুক্ত সন্তোষ কুমার দেওয়ানজী সীমানা প্রাচীর তোলা জায়গাটি নিজের পূর্ব পুরুষের সম্পত্তি বলে দাবি করেন।

সম্প্রতি দৈনিক দেশ বর্তমানকে ভুক্তভোগী লিপি নাথ বলেন, অনেক আশা নিয়ে ৪ বোন জোট বেঁধে একই ছাদের নিচে থাকতে সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ১১ বছর আগে ১ গণ্ডা ৩ কড়া জায়গা (বিএস ২৩২৭ নং খতিয়ানের বি.এস নামজারী ৫৯৬৯ নং খতিয়ানের বি.এস ৭০৯৭, ৭০৯৮ দাগ) কিনি ঘর বানাতে। এর পর থেকে ভোগ দখলে আছি। কিন্তু ৫/৬ বছর আগে থেকে প্রতিবেশী সন্তোষ কুমার দেওয়ানজী (৭০) এবং তার দল আমাদের বেশ হয়রানি করছে। সর্ববেশ, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আমাদের কেনা সম্পত্তি ও আমার বাবার দেয়া চলাচলের পথ জবর দখল করতে মরিয়া হয়ে সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমি ও আমার পরিবার অবৈধ দখলে বাঁধা দিলে আমাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। থানা পুলিশ ও আদালতের নির্মাণ কাজ বন্ধ করার র্নিদেশ অমান্য করে চলছে প্রতিনিয়ত। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে কাজ বন্ধ রাখে এবং চলে গেলে আবার শুরু করে। জায়গা দখল নিতে আমার পরিবারকে জড়িয়ে আদালতে ৩টি মিথ্যা মামলা দিয়ে ৫/৬ বছর ধরে হয়রানী করছে। আমাদের জায়গাটি দখল করতে প্রতিপক্ষ ভূমি খেকোরা আমিসহ আমার বাবা ও ভাইদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে চলছে। আমার ৮০ বছর বয়সী অসুস্থ বাবা ও প্রবাসী ভাইদের আসামি করায় বিদেশ যাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মূলত সন্তোষ কুমার দেওয়ানজীর ছেলে ধর্মীয় লেবাসধারী উজ্বল কুমার দেওয়ানজীর ছত্রছায়ায় এই জবর দখল হচ্ছে। সনাতনী নেতা সেজে তিনি ভূমিদস্যুতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই মানবিক সমাজে এই ভূমি খেকোদের বিচার দাবি করছি।

হাটহাজারী থানা পুলিশ থেকে উভয় পক্ষকে গত মাসের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া নোটিশে দেখা যায়, আদালতের বর্ণিত মামলা ১৪৪/২০২৪ এর আলোকে বিরোধীয় ভূমিতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক উভয় পক্ষকে স্ব-স্ব অবস্থানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। যেখানে আদেশ অমান্য করে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে আইনানুগ ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ আছে।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবী বিকাশ কান্তি নাথ দেশ বর্তমানকে বলেন, প্রতিপক্ষ জোর করে জায়গা দখল করায় আমরা আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি। আদালত তাতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। এখন শুনছি আদালতের আদেশ তারা মানছেন না। বিষয়টি শীঘ্রই আদালতকে জানিয়ে এর প্রতিকার চাইব।

অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে সন্তোষ কুমার দেওয়ানজীকে দেশ বর্তমানকে মুঠোফোনে জানান, দখলের জায়গাটি তাঁর পূর্ব পুরুষের। হুমকি ও গালাগালির বিষয়টি মাথা গরম হওয়ায় হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, সরেজমিনে জায়গায় গিয়ে দেখেন এবং উভয় পক্ষ জায়গা পরিমাপের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে জায়গাটি দখল হচ্ছে কিনা। এরপর নিজের ব্যস্ততায় দেখিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

হাটহাজারী থানা পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ওমর দেশ বর্তমানকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। যেহেতু বিষয়টি দেওয়ানি, সেহেতু বাদীকে পরামর্শ দিয়েছি আদালতের শরণাপন্ন হতে। আদালত দখলের বিষয়ে বাদীর পক্ষে রায় বা কোনো নির্দেশনা দিলে সেই অনুযায়ী যাতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে আমরা লক্ষ্য রাখবো।