পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শের-ই-বাংলা নৌ-ঘাটি নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে লালুয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার । কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বানৌজা শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটির জন্য চলমান জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের এবং বসবাসকারী ভূমিহীন পরিবারের জন্য কলাপাড়ায় পুনর্বাসনের দাবী জানান।
তারা বলেন, ” আমরা জমির মালিকরা আমাদের ঘর-বাড়ি জমি-জমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে চলেছি। তখন খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করা ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প থাকবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে স্থান দিয়ে বিশ্ব দরবারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেখানে আমাদের প্রায় ৬০০ পরিবারের কমপক্ষে ২৪০০ সন্তানের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন বলে আশাকর ’।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেন এ আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছানোর ব্যাবস্থা করবেন।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাওয়া বেগম, মোঃ নাছির তালুকদার, নিজাম প্যাদা, কহিনূর বেগম প্রমুখ।
শেরে-বাংলা নৌঘাঁটি নির্মাণের লালুয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া মৌজা থেকে প্রথম পর্যায়ে ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। যে খানে মোট ৪১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তীতে গোলবুনিয়া এবং বানাতি মৌজা থেকে আরও ৬২০ একর জমির অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান আছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান এলাকায় জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬০০ পরিবার। কলাপাড়া উপজেলায় বৃহৎ প্রকল্পের মধ্যে পায়রা বন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩,৪২৩ টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হয়েছে ।
পাশাপাশি পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারকে স্বপ্নের ঠিকানা নামক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিএল) এর ক্ষতিগ্রস্ত ২৮১টি পরিবারের জন্য ‘আনন্দপল্লী’ এবং ‘স্বপ্ননীড়’ নামে দুইটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্মাণ করা হয়েছে। একইসাথে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট সুপারথার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আশুগঞ্জ) নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০টি পরিবারের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ৪১টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়নি। প্রায় ৬০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
অন্য দিকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান এলাকায় অসংখ্য ভূমিহীন পরিবার বেড়িবাঁধের ঢালে এবং অন্যের জমিতে বসবাস করেন যারা কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ অথবা সহযোগীতা পাবেন না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হলে ভূমিহীন মুক্ত কলাপাড়ায় নতুন করে অসংখ্য পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়বে।