মাগুরায় হাত বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে টানা চৌদ্দ ঘণ্টা উত্তেজনার মধ্যে কাটিয়েছেন শহরবাসী। গত (১৬ আগস্ট) শনিবার সকালে শহরের এম.আর. রোডে অবস্থিত সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি সংশ্লিষ্ট মার্কেটের নিচে এবং পাশে তিনটি লাল কস্টটেপ মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু দুর্বৃত্তরা ফেলে যায়। এটা প্রথমে দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। খবর পেয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে দিনব্যাপি পাহারায় থাকে পুলিশ সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ বাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেনি। ঘটনাস্থলটি দিনব্যাপী ঘিরে রাখার কারণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অবশেষে রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ থেকে র্যা ব-৬ এর বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দল এসে বোমা সাদৃশ্য বস্তুগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে গত দু’দিন ধরে জেলায় চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বিস্ফোরকজাতীয় হাত বোমা উদ্ধারের প্রচলিত পদ্ধতি ছিল পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পানি বা বালিভর্তি পাত্রে ফেলে ঘটনা স্থল থেকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে নিষ্ক্রিয় করা। দীর্ঘদিন এইভাবে বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু নিরাপদে অপসারণ করা হলেও আধুনিক যুগে এসে হাত বোমা নিষ্ক্রিয় করতে পুরো দিনব্যাপী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাটকীয়তা দেখেছে সাধারণ মানুষ। বিগত দিনে দেখা গেছে, কোথাও যুদ্ধকালীন সময়ের ভারী গোলাবারুদ, হ্যান্ড গ্রেনেড ও ল্যান্ড মাইন জাতীয় বস্তু উদ্ধারে বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দলের ভূমিকা থাকে। আধুনিক যুগে এসেও হাত বোমা নিষ্ক্রিয় করতেই যদি এতটা সময় লাগে, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সময় কীভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশাসন? শেষ পর্যন্ত বোমা নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর শহরে স্বস্তি ফিরলেও পুলিশের কার্যক্ষমতা নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। সাধারণ মানুষ মনে করেন, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে পুলিশের প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা অর্জনে সংকট দেখা দিচ্ছে।
মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, শহরের জনবহুল সড়কে হাত বোমা পড়ে থাকার ঘটনায় দিনব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখা প্রশাসনের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার চিত্রই উঠে আসে। প্রশাসনের উচিত ছিল দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শহরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া। সঙ্গত কারণেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
ব্যবসায়ী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম তুষার বলেন, পুলিশের সক্ষমতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে গেছে। এর আগে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করতে দেখা গেছে পুলিশ নিজেরাই পানি বা বালিভর্তি পাত্রে তুলে নিয়ে যেত। অথচ এবারের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে সারাদিন আতঙ্কে রেখে রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা ও সাহসিকতার ঘাটতির প্রমাণ।
মাগুরা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা (বিপিএম,পিপিএম) দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, এখানে পুলিশের সক্ষমতার কোনো বিষয় নেই। বিস্ফোরক জাতীয় কোনো বস্তু ঝুঁকি নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্ধারের নিয়ম নেই। ঝুঁকি এড়াতেই ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং বিশেষজ্ঞ দলকে এনে রাতে বোমাগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে,।