মধুপুরে রাতের আঁধারে বসতঘরে আগুন, পুড়ে ছাই আসবাবপত্র


টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাতের আঁধারে এক নারীর বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভাইদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।
‎ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের টিকরী গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে।
‎স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিকরী গ্রামের মৃত মজিদ সরকার জীবদ্দশায় ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ভুক্তভোগী নিপার দাবি, ওই সময় তাঁর ছেলে ও ছেলের বউ বাবার দেখভাল না করায় তিনি মেয়েকে ডেকে নেন এবং নিজের ১০০ শতাংশ জমি দলিল করে দেন। এরপর থেকে নিপাই বাবার সেবা-শুশ্রূষা করতেন।
‎নিপার অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর ওই জমি ও বসতভিটা নিয়ে তাঁর ভাই স্বপন ও কাইয়ুমের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‎নিপা জানান, ভাইদের ভয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাই সকালে বাবার ভিটায় এসে দিন কাটালেও রাতে মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ তাঁর বসতবাড়িতে আগুন লাগার খবর পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখেন।
‎অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নিপা বলেন, “আমার ২০ বছরের জমানো সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।”
‎ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‎তবে আগুন লাগার ঘটনায় ভাইদের বিরুদ্ধে নিপার করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বপন ও কাইয়ুম। তাঁদের দাবি, “আমাদের বোন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমরা নিজেরাই তাকে থাকার জন্য ঘর দিয়েছি। জমি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। আমাদের অজান্তে বাবা নিপার নামে ১০০ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ায় তখন থেকেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। আমরা ঘরে আগুন দিয়েছি—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
‎অভিযুক্ত স্বপন আরও বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের ঘটনায় তাঁরা দুঃখিত এবং তাঁরা আগুন দেওয়ার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।
‎অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নিপা ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।