বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় উৎসব

দেবী বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় উৎসব। বিসর্জনের আগে মণ্ডপগুলোতে চলে সিঁদুর খেলার উৎসব। হিন্দু সধবা নারীরা প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে দেন। তারপর নিজেরা একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। চলে মিষ্টিমুখ, ছবি তোলা আর ঢাকের তালে নাচ-গান সহ আনন্দ উৎসব।

 

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জাতীয় শোভাযাত্রা বের হয়। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে এক এক করে প্রতিমা পলাশীর মোড়ে জড়ো করা হয়।শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে হাজারো মানুষ কেন্দ্রীয় এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পলাশীর মোড় থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে বুড়িগঙ্গা তীরে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়।

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী,দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে পাঁচ দিন বাপের বাড়ি অর্থাৎ মর্ত্যলোকে কাটিয়ে দেবী ফিরেছেন দেবালয়ের (স্বর্গ) কৈলাসে স্বামীর বাড়িতে। দেবীর সঙ্গে থাকবে চার সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। শাস্ত্রমতে, বিজয়া দশমীর দুটি তাৎপর্য। একটি দেবী দুর্গার বিজয়। অন্যটি রামচন্দ্রের বিজয়। বিজয়া দশমীর আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে— হিমালয় রাজকন্যা দেবী দুর্গা বা পার্বতী কিংবা উমা নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছিলেন দেবতা শিবকে। শিবের আবাসস্থল কৈলাস পর্বত। সেখান থেকে দেবী দুর্গা বা পার্বতী পিতৃগৃহে আসেন আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী— এই তিন দিন পিত্রালয়ে থাকার পর দশমী তিথিতে পতিগৃহ কৈলাসে প্রত্যাবর্তন করেন। কন্যাকে বিদায় জানানোর বেদনায় বিধুর-বিষাদাচ্ছন্ন হয় দশমী তিথি। তাই দশমী তিথি বিষাদের-বেদনার।

 

ধানমণ্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে রাজধানীর ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিমা বিসর্জন দেয়। এর মাধ্যমে দেবীকে বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন ঘাটে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ২৪৬টি মণ্ডপের প্রতিমা একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল বলেন, আজ বিজয়ী হয়েছেন দুর্গা মা। এজন্য আজ আমাদের আনন্দের দিন। আমরা উৎসব করি। জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সবাইজে জানাচ্ছি বিজয়ার শুভেচ্ছা।

 

এদিকে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা না ঘটে,সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াইজঘাটে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও নৌ পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ওয়াইজঘাটে হাজারো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।