বিনা নোটিশে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভাংচুর করেছে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে

 

চুয়াডাঙ্গায় বিনা নোটিশে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভাংচুর করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসময় ভূক্তভূগী ও স্থানীয়দের সাথে খারাপ আচারণ ও অকথ্যভাষায় গালাগালি করার অভিযোগ উঠেছে জিআরপি পুলিশ ও রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ভূক্তোভুগীরা ফুসে উঠেছে।

জানাগেছে চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনে পাথর দেওয়া হবে। এই কারনে পাথর রাখার জন্য স্টেশনের অদূরেই রেললাইনের পাশে কদমতলায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১৯ নভেম্বর রোববার মৌখিকভাবে স্থানীয়দের জানিয়ে যায় রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলীর দফতরের কর্মকর্তা কমর্চারী। কিন্তু পরেরনদিন ২০ নভেম্বর অর্থ্যাৎ গতকাল সোমবার সকালে অবৈধ দখলকারীদের কোন কিছু না জানিয়েই চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের জিআরপি পুলিশের সহযোগিতায় অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদে যায় চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলীর দফতরের কর্মকর্তা কমর্চারীরা।

ভূক্তোভুগীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কোন সময় না দিয়েই আকস্মিক ভাংচুর শুরু করে। এসময় অনুরোধ করলেও জিআরপি পুলিশের চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলীর দফতরের কর্মকর্তা কমর্চারীরা শোনেনি। এতে আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এছাড়াও
আকস্মিক ভাংচুরে সময় অনেকে আতংকিত হয়ে তড়িঘড়ি করে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সময় আহতও হয়েছে।

ভাংচুরের নেতৃত্ব দেন জিআরপি পুলিশের ইনচার্জ, ট্রলি চালক ইমরান। এই ইমরানের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিনের। শুধু ভাংচুরই করেনি,জিআরপি পুলিশ ও রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করেছে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন মিজানুর রহমান বলেন,এ বিষয়ে আমার কিছুই জানে না, সহকারী প্রকৌশলী বলতে পারবে।

চুয়াডাঙ্গা জিআরপি পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানা জানান, সহকারী প্রকৌশলীর মৌখিক নির্দেশেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে সহকারী প্রকৌশলী চাঁদ আহাম্মেদ জানান, আমি প্রয়োজনীয় কাজে বাহিরে ছিলাম, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেখানে পাথর রাখা হবে সেই জায়গার স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্ত এতো বিস্তৃর্ণ স্থাপনা কোন নোটিশ না দিয়ে বা সময় না দিয়ে উচ্ছেদ করা দু:খজন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এসময় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষতিপুরণ দাবী করেন। ক্ষতিপুরন না দিলে স্থানীয়দের সাথে কঠোর সিন্ধান্ত আন্দোলনে যাওয়া হবে।

এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।