প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আসুন দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তন করে জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ ও সোনার এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিই।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা দেশকে ধ্বংস করবে। তাই দলগুলোর বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৩ জুন) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি এ আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা বলেন, জন্মলগ্ন থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ, এনেছে স্বাধীনতার বিজয়। ৭৫’র পর স্বাধীনতার চেতনা ধুলিস্যাৎ করেছে অবৈধ সামরিক সরকার, আওয়ামী লীগ তা ফিরিয়ে এনেছে। আওয়ামী লীগ দেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে আসীন করেছে। পূরণ করেছে মানুষের অধিকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেশবাসী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’কে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে এবং ২০০৯ সাল থেকে বিগত সাড়ে ১৪ বছরে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
তিনি বলেন ‘২০০৯-২০২৩ মেয়াদে আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছি এবং চরম দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশের উপরে থেকে কমে ৫ শতাংশে নিয়ে এসেছি।’ শিক্ষার হার বেড়েছে, মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমেছে এবং দেশবাসীর গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দিয়েছে, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যেকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে, দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছে এবং গ্রাম পর্যায়ে ওয়াইফাই সংযোগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ আরও উন্নত হবে। ২০৪১ সাল নাগাদ আওয়ামী লীগ দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরিত করবে। বাংলাদেশ কৃষি, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি খাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এভাবে বিশ্ব মঞ্চে মর্যাদা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আগে বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিল, তারা এখন বাংলাদেশকে সম্মান করে। এই সম্মান আওয়ামী লীগ অর্জন করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তখন কারাগারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের দাবি সমর্থন করতে গিয়ে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। বন্দি অবস্থায় তাকে দলের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছে। জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে। বিজয় অর্জন করছে মুক্তিযুদ্ধে।
তিনি একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ যারা জীবন দিয়েছে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হাতে যারা হতাহত হয়েছে, বিএনপি-জামাতের অগ্নিসন্ত্রাসে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানীর প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে আজকে সারা বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশ আজকের উন্নয়নশীল মর্যাদা পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে দেশ উন্নয়নের পথে থাকবে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, সন্ত্রাসী দল বিএনপি-জামায়াতসহ যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারা দেশকে ধ্বংস করতে চায়।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দিয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে, শিক্ষার আলো জ্বলেছে প্রতিটি ঘরে, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে গেছে, মানুষের যাতায়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ওয়াইফাই কানেকশন দিয়েছি। বাংলাদেশের মানুষ এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, হাতে হাতে মোবাইল। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে দেশ আরও উন্নত-সমৃদ্ধ হবে।