বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের আদ্যোপান্ত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও অত্যন্ত সুদৃঢ়। বিশ্ববাণিজ্যের বাজারে দুই দেশের অর্থনৈতিক লেনদেন মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল, কৃষিপণ্য ও উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি বিনিময়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো পণ্যের তালিকায় সবচেয়ে বড় স্থান দখল করে আছে তৈরি পোশাক খাত। মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই ওভেন ও নিটওয়্যার পোশাক, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের একক বৃহত্তম বাজার। পোশাকের বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য যেমন- জুতা, বেল্ট, ব্যাগ এবং কৃত্রিম চামড়ার পাদুকা নিয়মিত মার্কিন বাজারে পাড়ি দিচ্ছে।
এর পাশাপাশি বিছানার চাদর, তোয়ালে ও গৃহস্থালির টেক্সটাইল সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিক এবং হিমায়িত চিংড়ি ও মাছের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে দেশটিতে। সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেবা ও ওষুধশিল্পও মার্কিন বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত পণ্যের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শিল্প খাতের কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সুতা ও কাপড়ের বিশাল চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ তুলো আনা হয়।
এ ছাড়া ভোজ্যতেল ও পোল্ট্রি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সয়াবিন বীজ, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গম ও অন্যান্য দানাশস্য এবং রড ও ইস্পাত কারখানার জন্য স্ক্র্যাপ লোহা আমদানি করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিমান খাতের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক মেডিকেল ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জামও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হয়ে থাকে।
জিএসপি সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও উচ্চ গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছে।