বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সংকটাপন্ন শ্রীলংকাকে দেওয়া ঋণের ২০ কোটি ডলারের মধ্যে ৫ কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) এই ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধ করেছে দেশটি। এর ফলে দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (২১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক।
তিনি জানান, শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ২০ কোটি ডলার ঋণের মধ্যে ৫ কোটির এক কিস্তি আমরা পেয়েছি। চলতি মাসের শেষের দিকে আরও একটি কিস্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। আমরা আশা করছি এ বছরের মধ্যে ঋণের পুরো অর্থ দেশটি আমাদেরকে পরিশোধ করবে।
কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতির আওতায় ২০২১ সালে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয় বাংলাদেশ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট ৫ কোটি ডলার ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্বিতীয় দফায় ১০ কোটি ডলার দেওয়া হয় একই বছরের ৩০ অক্টোবর। এরপর ৫ কোটি ডলার দেওয়া হয় নভেম্বরে।
বিদ্যমান চুক্তির আওতায় গত বছরের আগস্ট, অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তবে নাজুক অবস্থায় থাকায় নির্ধারিত সময়ে ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় দেশটি। পরে তাদের আবেদনের পরিপেক্ষিতে তিন মাস করে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়।
ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেট বা লাইবর যোগ করে দেড় শতাংশ সুদ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। সে সুদ নিয়মিত পরিশোধ করছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়।
গত ১৬ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভ আছে ২ হাজার ৯৩৮ কোটি ডলার (২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন) ডলার। এই রিজার্ভ থেকে কয়েকটি তহবিল গঠনসহ শ্রীলংকাকে ঋণ দেওয়া হয়। তহবিল গঠন করা টাকার পরিমাণ ৬২৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। আইএমএফ’র কাছে থেকে ঋণ নেওয়ার শর্তে এ অর্থ রিজার্ভ থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত রিজার্ভ কমে নেমে আসে ২৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। শ্রীলংকা ৫ কোটি ফেরত দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের প্রকৃত রিজার্ভ বাড়লো।