বলিউমে ঘষামাজা করে রাস্তার স্থলে ‘চালা’ শ্রেণী দেখিয়ে নামজারি দূর্নীতির চক্র রাজাবাড়ী ভুমি অফিস

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া অধিকাংশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সকল কর্মকর্তারা শ্রীপুরে এসেই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সাবেক এসিল্যান্ড রেহেনা আক্তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কাছে ভূমি অফিসের অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে পাঁচটি লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বদলি হলেও অভিযোগগুলোর কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। শ্রীপুর উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন অবস্হায় দুর্নীতি পরায়ণ সাবেক এসিল্যান্ড , রেহেনা আক্তার ও মোঃ মতিয়ার রহমান(কানুনগো),সার্ভেয়ার নামসহ উল্লেখযোগ্য। দুর্নীতিকে যেন নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ভলিউমে ঘষামাজা করে রাস্তার স্থলে চালা শ্রেণি দেখিয়ে নামজারি”।

এ ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর-এ আলম। তৎকালীন এসিল্যান্ড ছিলেন রেহেনা আক্তার । জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ কারী ধলাদিয়া গ্রামের মৃত. সামসুদ্দিনের ছেলে জহিরুল ইসলাম দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেনে ।
৩ অক্টোবর, ২০২৪ ইং তারিখে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এসএ শাখার (স্মারক নং: ১৯৩৮)। অভিযোগে বলা হয়, ভলিউম ঘষামাজা করে আরএস ১৭৯ নং দাগের রাস্তার মোট ৪ শতক কাতে ২ শতক ’চালা’ শ্রেণি দেখিয়ে শ্রীপুরে রাজাবাড়ী খোকন সরকার এর নামে নামজারি করে দেওয়া হয়। ভলিউম বইও বদলে যায়, কিন্তু শ্রেণী সংশোধনের প্রতিবেদন নেই: রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর-এ আলম, ও অফিস সহায়ক মনিরুজ্জামান মনির নিয়মিত ঘুষ লেনদেন করে নামজারি করতেন। এমনকি ভূমি অফিসের মূল ভলিউম বই কাঁচি ও প্রিন্ট আউটের মাধ্যমে বদলে দেওয়া হতো।
এ বিষয়টি নিয়ে সাবেক নায়েব মুহাম্মদ নূর-এ আলম, এর সাথে আর.এস ১৭৯ নং দাগ নম্বরে ভলিউম ঘষামাজা করে রাস্তা স্থলে কিভাবে চালা শ্রেণী দেখিয়ে খোকন সরকার নামে নামজারি করেন কথাটি বলতে সাথে সাথে তিনি মুঠোফোনের লাইনটি কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে সাবেক এসিল্যান্ড রেহেনা আক্তার এর কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি আমাদের বলেন ইউনিয়ন ভূমি অফিস হতে আমাদের উপজেলা ভূমি অফিসে প্রস্তাবনা পাঠায় আমরা নামজারি অনুমোদন করে দেই। যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে সংশোধন সুযোগ আছে বলে লাইনটি কেটে দেন।

আর.এস ১৭৯ নং দাগ নম্বরের মালিক খোকন সরকারের সাথে এবিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন জবাব দিতে পারবেন না বলে মোঠোফোন কেটে দেয়। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ আমাদের বলেন ডিসি অফিস থেকে লিখিত অভিযোগ (১৯৩৮) স্মারক আমরা পেয়েছি ক্ষতিয়ে দেখছি তদন্ত ও শুনানী চলছে। অভিযোগ কারি সহ ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী সকলকে নোটিশ করেছি। তদন্ত করে তারপর প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত জবাব দেয়া হবে। এ সকল দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন উপজেলা ভূমি অফিস (ভূমি) শ্রীপুর, মোঃ মতিয়ার রহমান (কানুনগো), সার্ভেয়ার মোঃ মামুনুর রশিদ। রাজাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর-এ আলম, অফিস সহায়ক মনিরুজ্জামান মনির।