কুড়িগ্রামে ৭ বছরের শিশু চম্পা হত্যা মামলার প্রধান আসামী। মিন্টু বসুনীয়া ও স্ত্রী মোর্শেদা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। গাজীপুর বড়বাড়ি জয় বাংলা থেকে ওই দম্পত্তিকে আটক করা হয়েছে। ওই দম্পতির বাড়ি উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের গনকপাড়া গ্রামে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাদের কুড়িগ্রাম আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় উলিপুর থানা পুলিশ।
জানা গেছে ২০১৩ সালে উলিপুর থানাধীন দলদলিয়া ইউনিয়নের গনকপাড়া গ্রামে আশরাফ ডাক্তারের পুকুরে মিন্টু বসুনিয়া ও চাদ মিয়া ওরফে ভগলু (আসামী মিন্টুর আপন বড় ভাই) অন্যান্য সঙ্গী সাথীসহ মাটি কাটতে গিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার এ মামলার বাদী বজরুল এর সাথে আসামী মিন্টু বসুনিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় মিন্টু বসুনিয়া ও চাদ মিয়া বজরুলকে ভাড়ের বাংখুয়া দিয়ে মারপিট করে। অতঃপর গুজব সৃষ্টি হয় যে, বজরুল মারা গেছে।
পুলিশ ও মামলা সুত্রে জানা যায়, এ ঘটনার দায় হতে নিজেকে আড়াল করার জন্য এবং প্রতিপক্ষকে পাল্টা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে গ্রেফতারকৃত আসামী মিন্টু বসুনিয়া ও তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম পরস্পর যোগসাজোসে অত্যন্ত সু-কৌশলে আপন ভাতিজি অর্থাৎ চাদ মিয়ার ৭ বছরের শিশু কন্যা চম্পা’কে শ্বাসরোধ করে হত্যা বাঁশঝাড়ে লাশ ফেলে রাখে। পরে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে আসামী মিন্টু মিয়াই উক্ত বাঁশ ঝাড় হতে চম্পার লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় মামলা হয় প্রতিপক্ষ বজরুল পরিবারের বিরুদ্ধে। ধৃত আসামী সহ বাদীর লোকজন প্রতিপক্ষ বজরুল এর ভাতিজা হাফিজুলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উলিপুর থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর তদন্ত জাকির উল ইসলাম চৌধুরী মামলাটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ আইনানুগ তদন্তকালীন সময়ে ঘটনার ভিন্নরুপ মোড় নেয়।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রুহুল আমীন বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ও হৃদয় বিদারক ঘটনা। আসামী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছে।২০১৩ সালের শিশু হত্যা মামলার মূলহোতা দম্পতিকে ১১ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেফতার করলো উলিপুর থানা পুলিশ যা সম্ভব হয়েছে সুষ্ঠু পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে।