নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন হিরো আলম

প্রার্থিতা ফিরে পেয়েও ভোটের লড়াই থেকে সরে যাচ্ছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে কী কারণে সরে যাচ্ছেন তা জানাননি। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাচ্ছেন হিরো আলম। ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থী উইড্র করবেন তিনি।” দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন হিরো আলম। মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করায় গত ৩ ডিসেম্বর তার প্রার্থিতা বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। গত ৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফিরে পেতে কমিশনে আপিল আবেদন করেন হিরো আলম। ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন হিরো আলম। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ৬ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে বিএনপির দখলে থাকা বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে আবারও অংশ নেন হিরো আলম। এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই উপনির্বাচনে একতারা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই ইউটিউবার।  বগুড়া-৬ আসনে জামানত হারালেও বগুড়া-৪ আসনে দেখান অভাবনীয় চমক। মাত্র ৮৩৪ ভোটে পরাজিত হন তিনি। গত ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার হেভিওয়েট প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে ভোট যুদ্ধে নামেন তিনি। এই নির্বাচনে ঘটে নানা নাটকীয়তা। ভোটকেন্দ্রে আক্রান্ত হন তিনি। এই নির্বাচনে জয়ী হন মোহাম্মদ এ আরাফাত। দ্বিতয়ি সর্বোচ্চ ভোট পান হিরো আলম। হিরো আলমের বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া গ্রামে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা হিরো আলম এক সময় ক্যাবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা (ডিশ সংযোগ) করতেন। ২০০৮ সালে ২৩ বছর বয়সে তিনি মডেলিংয়ে যুক্ত হন। এরপর নিজের অভিনয় ও গানের দৃশ্য রেকর্ড করে ক্যাবল নেটওয়ার্কে প্রচার করতে থাকেন। এতে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পান। ২০১৬ সালে ‘‘হিরো আলম” নামে ফেসবুক পেজ খুলে অভিনয় ও গানের দৃশ্য শেয়ার করতে শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই নানা বিতর্কিত কাজ করে আলোচনায় রয়েছেন তিনি।