২০১৮-১৯ সালে সিসিএম/পশ্চিম অফিসে ২০ লাখ একটা টেন্ডারে ৯ টি আইটেম কেনা হয়, এর মধ্যে ২০০ টা তালাও কেনা হয়। পিপিআর-২০০৮ এর সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করে কেনাকাটা করা হলেও এটা নিয়ে অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়। উক্ত অডিট আপত্তি নিয়ে প্রথমে এই ষড়যন্ত্র কারী গোষ্ঠী টি একটা জাতীয় দৈনিকে নিউজ করায়। পরে এমনভাবে তা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হতে থাকে যে, কোন তদন্ত কমিটি গঠনের আগেই ছাত্রদল ও বগুড়া সংশ্লিষ্ট বেলাল হোসেন এবং একজন এলডিএ বগুড়ার আলামিন তালুকদার কে এবং ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট এস এম শাহনেওয়াজ কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এরপর প্লানমত তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটি এই টেন্ডার সহ আরও ৭/৮ টেন্ডারের আইটেম নিয়ে তদন্ত করে। কমিটি ১৮ জনকে টেন্ডারে অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো কমিটি ১৮ জন কে দায়ী করলেও ততকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের প্রভাব খাটিয়ে এই আনোয়ারুল ইসলাম বাজার কমিটি, প্রাক্কলন কমিটি ও অনুমোদনকারী সকল কে সকল অভিযোগ হতে অব্যাহতি দিয়ে বেলাল হোসেন ও শাহনেওয়াজকে স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করানো হয় যা ছিল বিচারের নামে চরম অবিচার।
এরপর এই ঘটনার প্রায় কাছাকাছি আরও কিছু টেন্ডার নিয়ে দুদকের এনফোর্সমেন্ট করানো হয়। দুদক এনফোর্সমেন্ট রেলওয়েকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলে। এখানে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এখানেও পূর্বের মত একইভাবে সুপারিশ অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। তদন্তে বাজার কমিটি, প্রাক্কলন কমিটি এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সকল সদস্যকে সকল অভিযোগ হতে অব্যাহতি দিয়ে দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদন করায় বেলাল হোসেন কে ১ বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত এবং শাহনেওয়াজ কে নিম্ন পদে পদাবনতি করানো হয় যা চরম অবিচার এবং ন্যায়বিচার পরিপন্থী।
সিওএস/পশ্চিম দপ্তরের বাজেট সাধারণত বছরে ১৫ কোটি টাকার মত হয়। বেলাল হোসেন সরকার ৩ বছর পশ্চিমাঞ্চলে সিওএস/পশ্চিম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৩ বছরের মোট বাজেট হবে ৪৫ কোটি বা বড়জোর ৫০ কোটি টাকা। অথচ নাবিল আনোয়ারের এই প্রোপাগান্ডা গ্রুপটি সে সময় এক জঘন্য মিথ্যা অপবাদ ছড়ায় যে বেলাল হোসেন ২০০ কোটি লুটপাট করে কানাডার বেগম পাড়ায় চলে গেছেন। একজন সরকারী কর্মকর্তা কি সরকারী আদেশ বা জিও ছাড়া কোনভাবে বিদেশ যেতে পারেন? কিন্তু সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের ভাগ্নি জামাই আনোয়ারুল এর ব্যবসায়ীক পার্টনার নাবিল এই মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে একজন কর্মকর্তার সম্মানহানি করতে থাকে।
এরপর বেলাল হোসেন সিসিএস হওয়ার পর থেকে এই গ্রুপ বলতে থাকে একে ৬ মাসের বেশি সিসিএস পদে থাকতে দিবে না। তাদের প্লানমত তারা ঠিকই প্রথম দিন থেকেই নানা কল্প কাহিনি ছড়াতে থাকে। বেলাল হোসেন সিসিএস হিসেবে যোগদানের ১ সপ্তাহের মধ্যেই তারা ডিসিওএস/পরিদর্শন, পাহাড়তলী দপ্তরে একটা চুরির নাটক সাজায়। সেখানে একজন এসএসএই এর নেতৃত্বে পরিচালিত একটা ওয়ার্ডে ৫৭ লাখ টাকার ক্যাবল চুরির নাটক সাজায়। প্রকৃতপক্ষে মালামাল চুরির ঘটনা ৭ কোটি টাকার উর্ধ্বে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। উক্ত চুরির ঘটনার উপর একটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটি শুধুমাত্র চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তদন্ত করে। কিন্তু ৬ কয়েল তারের দাম অবিশ্বাস্য ৫৭ লাখ টাকা হলেও এই তার সোনা নাকি হীরা দিয়ে তৈরি সে বিষয়ে কোন আলোকপাত করে নি। তদন্তে উক্ত দপ্তরে যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিল তাদের বদলির সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো আনোয়ারুল এই দপ্তরে ১৫ বছর ধরে কর্মরত ছিল এখানে তার একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। চুরির দায়ে অভিযুক্ত এস এস এ ই আনোয়ার সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ায় তারা এই তদন্ত রিপোর্ট যাতে কার্যকর না হয় এজন্য নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে আনোয়ার কে সিসিএস হিসেবে আনার প্রক্রিয়া করে। যার সর্বশেষ ঘটনা হল সিসিএস দপ্তরে আগুন লাগার ঘটনা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে এই আগুনের ঘটনা অবশ্যই কোন দুর্ঘটনা না, এটা অবশ্যই পরিকল্পিত আনোয়ার সিন্ডিকেটের কাজ। কিন্তু রেল প্রশাসন এই ষড়যন্ত্র গুলির সঠিক তদন্ত না করে শুধু আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং লুটপাট শতভাগ বৃদ্ধির জন্য এক লুটেরা, মাফিয়া, দুর্নীতিবাজ, দুদকের টেন্ডার জালিয়াতি মামলার ১ নং আসামী কে এই পদে বসায় যা অত্যন্ত দু:খজনক।
এছাড়া সিসিএস বেলাল হোসেন কে সরানোর তারা একটা জাতীয় দৈনিকে মিথ্যা নিউজ করায় যে বেলাল ১ বছরেই ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। গত ১ বছরে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। আর এ ধরনের দরপত্রে বিদেশি ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করে বিধায় এখানে কোনভাবেই কেউ অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না। কাজেই, ১ বছরে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা চরম মিথ্যাবাদিতা ছাড়া আর কিছুই না। অথচ আনোয়ারুল গত ১৫ বছরে ১০০০ কোটি টাকার উর্দ্ধে লুটপাট করেছেন এবং অধিকাংশই বিদেশে পাচার করেছেন। সেই লুটপাটের বিচার না করে লুটপাটকারীকে আরও লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া কি অন্যায়কে প্রশয় দেওয়া না? কাজেই লুটপাটের এই আয়োজন কে দেশ ও রেলের স্বার্থে অবশ্যই থামানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা উচিত। রেল কর্তৃপক্ষ সেটা যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে, ততই দেশের মংগল হবে।