নতুন দুর্ভোগ খানাখন্দ সড়ক
চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে ৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, কাল থেকে সংস্কারে নামছে চসিক
চট্টগ্রাম নগরীতে টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার পর সড়কের খানা-খন্দে কমেনি দুর্ভোগ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নগরীর প্রধান সড়ক ফুটপাত ও ড্রেনসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা। সড়কগুলো থেকে পানি নামার পর ছোট-বড় খানা-খন্দ ও কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গাড়ি চালকরা।
বিশেষ করে সিএনজি অটো রিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোসহ ছোট চাকার গাড়িগুলো বেগ পেতে হচ্ছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছনে যাত্রী ও পথচারীরা। ভুক্তভোগীরা বলছেন টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। ফলে তৈরী হয়েছি খানা-খন্দ। যে কারণে ভোগান্তিতে গাড়ি চালক ও পথচারীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে বুধবার (৯ আগস্ট) থেকে সংস্কার কাজ শুরু করবে বলে জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সরেজিমনে দেখা যায়, নগরীর বহদ্দার হাট, শুলকবহর, মুরাদপুর, অক্সিজেন, চকবাজার, দেওয়ানহাট,ও আগ্রাবাদসহ জলাবদ্ধাতার কবলে পড়া বেশ কিছু এলাকার অধিকাংশ সড়ক এখন ক্ষত বিক্ষত। সড়কে সৃষ্ট ছোট-বড় গর্তের কারনে এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু এ সড়কগুলো নয় নগরীর অনেক অলি-গলির সড়কেও ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
ভেঙ্গে গেছে সড়কের বেশ কিছ অংশ। এতে গাড়ি চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন চালকরা। ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। কোথাও কোথাও তৈরী হচ্ছে যানজট। এছাড়া অনেক চালক আচমকা ব্রেক কষতে গিয়ে ঘটাচ্ছেন দূর্ঘটনা।
নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকার টেম্পু চালক সাদ্দাম বলেন, বেশ কয়েকদিন বৃষ্টির কারনে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারিনি। এখন পানি সরলেও রাস্তায় হয়েছে ছোট ছোট গর্ত। এসবের কারনে গাড়ি খুবই ধীর গতিতে চালাতে হয়, না হয় গাড়ি উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ঝাঁকুনীতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইঞ্জিন। বহদ্দার হাট এলাকার রিকশা চালক করিম বলেন, বহদ্দার হাট থেকে মুরাদপুর যেতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। অনেক সময় গর্তের কারনে রিকশা উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয় ।
করিমের মতো একই সুরে কথা বললেন চমেক হাসপাতালের কর্মজীবী লুৎফুল এনামও । তিনি বলেন, রাস্তায় খানা-খন্দের কারনে রিকশায় চড়া খুবই রিস্ক। আর অন্যান্য ছোট গাড়িতেও হচ্ছে সমস্যা। তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হলে নগরবাসীর উপকার হবে, কেননা চারদিন পানিতে ডুবে থাকায় বেশীরভাগ লোকেরই অনেক কাজ জমে গেছে।
শুলকবহর এলাকার বাসিন্দা লেখক ও সংগঠক যিকরু হাবিবীল ওয়াহেদ বলেন, শহরের রাস্তাগুলো এমনিতেই ভাঙা গর্তে ভরা। এর উপরে জলাবদ্ধতার কারনে রাস্তাগুলো এখন রীতিমত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা, সিএনজি অটো-রিকশা, প্রাইভেট কার এক্সিডেন্ট করছে। এমতাবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাগুলো সংস্কার না করলে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করবে বলে জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক। তিনি দেশ বর্তমানকে বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে ২ কিলোমিটার ফুটপাত ও ২কিলোমিটার ড্রেন। এগুলো সংস্কার করতে মোট ৬০ কোটি টাকা খরচ হবে। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফান্ড থেকে নিয়ে বুধবার থেকেই কাজ শুরু করে দিব, পরে মন্ত্রাণালয়ে পাঠাবে বলেও জানান সিটি কর্পোরেশনের এই কর্মকর্তা।