‘দ্বিধা ঝেড়ে’ নির্বাচনে আসছে জাতীয় পার্টি

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দ্বিধা–দ্বন্দ্ব কাটিয়ে নির্বাচনে আসছে জাতীয় পার্টি। বুধবার দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের নির্বাচন নিয়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান। চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। নির্বাচন ফেয়ার হবে সংশ্লিষ্টদের এমন আশ্বাসেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চেয়ারম্যান।’ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে দ্বিধা থাকলেও গত সোমবার থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে জাতীয় পার্টি। নির্বাচনের শতভাগ পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি: চুন্নুনির্বাচনের শতভাগ পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি: চুন্নু। গত রোববার মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় থাকার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়ার যেসব প্রস্তুতি, সবই আমাদের আছে। এখন আমরা দ্বিধায় আছি। এটা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারিনি। এ জন্য আমরা একটু সময় নিচ্ছি।’ গত মঙ্গলবারও সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জাতীয় পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন চুন্নু। এ দিন তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন সামনে এসেছে। আমরা সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চেয়েছি। নির্বাচনের জন্য আস্থার শতভাগ পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি।’ এর একদিন পরেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো। গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে, চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জাপাএককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জাপা। এরই মধ্যে মনোনয়ন বিক্রি কার্যক্রম শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী বৃহস্পতিবার মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে দলটি। আওয়ামী লীগের পর এবার নির্বাচনের রাস্তায় পথ চলা শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টিও। দলটি ঘোষণা দিয়েছে, এবার কোনো দলের সঙ্গেই জোট হবে না। ৩০০ সংসদীয় আসনেই একক প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। ৯০-এর দশকে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করেছে দলটি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতে জাতীয় পার্টির সহায়তা নেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ১৪৬টি। জাতীয় পার্টি পায় ৩২টি এবং বিএনপির আসন ছিল ১১৬টি। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে জোট গঠন করে এরশাদের জাতীয় পার্টি। ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায় দলটি। তবে দল ভেঙে একটি অংশ বিজেপি নামে থেকে যায় সেই জোটের সাথে। ২০০৭ সালে জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম ও এলডিপির সাথে জাতীয় পার্টিকেও জোটে নেয় আওয়ামী লীগ। অবশ্য এই জোট টেকেনি। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বাদ পড়ে এলডিপি ও গণফোরাম। সে সময় জোটে জাতীয় পার্টিই ছিল আওয়ামী লীগের মূল শরিক।  সেই নির্বাচনে মহাজোটের কাছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কোনো পাত্তাই পায়নি। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে এই জোট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে আরেক দফা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া আসনে ভোট করে জাতীয় পাটি। নির্বাচনের পর সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও মর্যাদা পায় দলটি। বিরোধী দলে থাকলেও দলটির বেশ কয়েকজন নেতা সেই সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নিয়ে সে সময় দলটিকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এরপর বহুবার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের জোট থেকে বের হয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত জোটে থেকে যায়। ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের সাথে অনেকটা সমঝোতা করেই নির্বাচনে আসে তারা। ওই নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলে ২২টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের স্থান ধরে রাখে জাতীয় পার্টি।