তারকাদের এনে চমক দেখাল আওয়ামী লীগ

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য পোক্তভাবেই মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২৯৮ আসনের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে রবিবার (২৬ নভেম্বর) চমক দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। যেখানে উঠে এসেছেন তারকারাও। নৌকার মনোনয়নের ক্ষেত্রে তারকা ক্রিকেটার তারকা সাকিব আল হাসানের নাম সবচেয়ে বড় চমক। মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে রাজনীতিতে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন এই তারকা ক্রিকেটার। পাশাপাশি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। ঢাকা-৬ আসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটি কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মনোনয়ন না দিয়েও চমক সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ ই আলম ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ মনোনয়ন না পাওয়ায় চমকেছেন অনেকেই। রবিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এদিন সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শেখ হাসিনা। গতবারের মতো এবারও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে গোপালগঞ্জ-৩ আসন ও নোয়াখালী-৫ আসনে থাকছেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী রীগ সূত্র জানায়, আগামী ৭ জানুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩,৩৬২ জন, যাদের মধ্যে নেতা ছাড়াও তারকা, সাবেক আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তা আছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বিভাগ ধরে সেসব ফরম থেকে প্রার্থী বাছাই করে। কাকে কাকে প্রার্থী করা হচ্ছে, এ বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখে ক্ষমতাসীন দল। দলের সদস্যদের পাশাপাশি ক্রিকেটার সাবিক আল হাসানও তিনটি, চিত্রনায়ক ফেরদৌস দুটি এবং চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, সামসুন্নাহার সিমলা একটি করে আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে মাগুরা-১, চিত্রনায়ক ফেরদৌসকে ঢাকা-১০ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন মাহি। সাবেক ক্রিকেটার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা দ্বিতীয়বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, এমন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বাদ পড়েছেন কমই। যাদের নাম কাটা পড়েছে তাদের মধ্যে আছেন সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন (ফরিদপুর-৩), সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান (জামালপুর-৪), সাবেক পুলিশ প্রধান নুর মোহাম্মদ (কিশোরগঞ্জ-২), এনামুল হক (রাজশাহী-৪), হাজী মোহাম্মদ সেলিম (ঢাকা-৭), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর (চাঁদপুর-১)। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় উপ-নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী করা শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। মাদারীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাছিম ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যেখানকার বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন। সূত্র জানায়, বরিশাল-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শাহ-ই-আলমকে বাদ দিয়ে সেখানকার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনূসকে বাছাই করা হয়েছে। বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বরিশাল-১ আসনে বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহই মনোনয়ন পেয়েছেন। আর বরিশাল-৫ আসনে পেয়েছেন বর্তমান এমপি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। বরিশাল-৩ আসনে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন স্বপন এবং বরিশাল-৬ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিককে বাছাই করা হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই দুই আসন থেকে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নির্বাচনে অংশ নেননি। ঢাকা-৭ আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। এই আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন ইরফান, তার বাবা ও ভাই সুলাইমান সেলিম। বর্তমান সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিনকে বাদ দিয়ে যশোর-২ আসনে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তৌহিদুজ্জামান তুহিন। তৌহিদুজ্জামান একজন চিকিৎসক এবং আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের জামাতা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬ চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।

তবে প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত আসন সমঝোতার সুযোগ আছে আওয়ামী লীগের।