সরকার পতনের এক দফা দাবি ও একতরফা তফসিল বাতিলের দাবিতে বিএনপি সমমনা দলগুলোকে নিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে রয়েছে। একই সময়ে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে ঘটছে নানা নাটকীয়তা। আলোচনায় আসছে ছোট ছোট নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দলগুলো। ভোটে যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় থাকা জাতীয় পার্টিও নির্বাচনের মাঠে পুরো শক্তি নিয়ে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলো আট জোটের সমন্বয়ে গঠিত হয় “সম্মিলিত মহাজোট”। গত ১১ নভেম্বর গঠিত হওয়া এই জোটটিতে নিবন্ধিত দল মাত্র একটি; বাংলাদেশ কংগ্রেস। দলটির “ডাব” প্রতীকে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে মহাজোট। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এই ঘোষণা দেন সম্মিলিত মহাজোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাড. কাজী রেজাউল হোসেন। অনুষ্ঠানে রেজাউল হোসেন বলেন, “জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগামীতে একত্রে অংশ নেওয়া ছাড়াও সম্মিলিত মহাজোট দেশ ও জনগণের স্বার্থে এবং জাতীয় সংকট নিরসনে যৌথভাবে কর্মসূচি দেবে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য মহাজোটের প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে কাজ করবেন।” তিনি আরও বলেন, “দেশকে বাঁচাতে হলে আমাদের হাতে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে। তাই এদেশের সকল রাজনৈতিক দলকে নিজ দায়িত্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।” এর আগে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতির হিসেব-নিকেষে দোল দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। তিনি একাই নন; বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগকে সঙ্গে নিয়ে “যুক্তফ্রন্ট” নামে জোট করে এই ঘোষণা দেন তিনি। তৃণমূল বিএনপি তফসিলের আগে থেকেই তৎপর। আলোচনা রয়েছে, বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকা নাগরিক ঐক্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। গত ২৮ অক্টোবরের পর দলটির প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্নাকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় দেখা যায়নি। কল্যাণ পার্টির নেতৃত্বে “যুক্তফ্রন্টের” নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার পরে মনে করা হচ্ছে, আর বেশ কিছু ছোট দল নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেবে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এইসব ছোট দলের ভোটে অংশগ্রহণ আদতে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯ জন প্রার্থী দিয়ে ২১,৬০৯ ভোট পেয়েছিল কল্যাণ পার্টি। ছোট দলগুলোর অবস্থা ঠিক এমনই। বড় দলগুলো অংশ না নেওয়ার সুযোগে তারা সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কল্যাণ পার্টিসহ তিন দলের ভোটে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, “যারা মনে করেছিল কে আসে কে না আসে… ফুল কিন্তু ফুটতে শুরু করেছে। আরও অনেক ফুল ফুটবে। মনোনয়ন ফরম নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া পর্যন্ত শত ফুল ফুটবে। কাজেই এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।” ফলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রিক আলোচনায় আরও বেশ কিছু নাটকীয়তা দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৪৪টি। এরমধ্যে বিএনপিসহ ১৮টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিন্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তারা তাদের দাবিতে আন্দোলন করে যাবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামী, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া নুরুল হক নূরের গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। সব মিলিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কতটি দল অংশ নেয় সেটি জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ওইদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ সময়। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি দল অংশ নিয়েছিল, দশম সংসদ নির্বাচনে ১২টি ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি দল ভোটে অংশ নেয়। গত ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ইসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।