জলকেলি উৎসবে মেতেছে রাখাইন পল্লী

বর্ষবরণে রাখাইন সম্প্রদায় মেতেছে ‘সাংগ্রেং’ বা জলকেলি উৎসবে। তাদের বিশ্বাস মঙ্গল জলে ধুয়ে যাবে পুরনো বছরের সকল দুঃখ্য-গ্লানি এবং নতুন বছর হবে নির্মলের। উৎসবটি রাখাইনদের হলেও কালক্রমে এটি কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। তৈরী হয়েছে সম্প্রীতির এক বন্ধন।

রাখাইন পঞ্জিকা ১৩৮৫ বিদায় দিয়ে ১৩৮৬ রাখাইন বর্ষবরণে এই উৎসব। সামাজিক নিয়মে গত ১৪ এপ্রিল শুরু হওয়া এই উৎসব জলকেলির মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ২০ এপ্রিল। উৎসবে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঢাক-ঢোল বাজিয়ে নাচে-গানে শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে এক প্যান্ডেল থেকে অন্য প্যান্ডেলে যায়।

প্যান্ডেলে তরুণী তরুণকে লক্ষ্য করে পানি নিক্ষেপ করে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে চলে পানি নিক্ষেপের খেলা। এই খেলা এখন আর তরুণ-তরুণী’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাখাইনরা উৎসবে আগতদের মঙ্গল পানি ছিটিয়ে বরণ করছে।

জলকেলি উৎসব এখন ঐতিহ্যবাসী সামাজিক উৎসব রীতিতে পরিণত হয়েছে। নিজেদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন ও ঐক্য তৈরীতে এই উৎসব ভূমিকা রাখে বলে অভিমত রাখাইনদের।

ভক্তি, শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করা হচ্ছে বলে জানান রাখাইন নেতা।

এই উৎসব রাখাইনদের হলেও এখানে পর্যটক সহ সকলে অংশগ্রহণ করেন। এই উৎসবের সাবিক সহযোগিতায় পৌরসভা সবসময় পাশে রয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান।

এসব উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তারই অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানান ডিসি মুহাম্মদ শাহীন ইমরান।

শহরের রাখাইন পল্লীতে রয়েছে ১২ টি প্যান্ডেল এবং পুরো জেলায় রয়েছে অর্ধশত। রাখাইনদের অন্যতম এই উৎসব সফল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ করতে পুলিশ ৩ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।