ছাত্রলীগ কর্মী জুয়েল হত্যার ৮ দিন, ধরা ছোঁয়ার বাইরে আসামিরা

প্রতিবাদে ওয়ার্ড ছাত্রলীগ ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগ কর্মী জুয়েল হত্যাকাণ্ডের ৮দিন পার হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে আসামিরা। এদিকে, আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে উপজেলার ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। এতে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

গতকাল মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৪ টায় উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের হাদিমুসা নতুন রাস্তার মাথা এলাকার হত্যাকাণ্ডস্থলে এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত জুয়েলের বাবা আলগীর হোসেন অশ্রুশিক্ত চোখে হত্যকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রত্যেক আসামির ফাঁসির দাবি করে বলেন, আমার ছেলে রাতে বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ইউনুস, তার বাবা-মাসহ একদল সন্ত্রাসী বাহিনী আক্রমণ করে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ইউনুসের মা আমার ছেলেকে হত্যা করার জন্য তার ছেলের হাতে দা-ছুরি তুলে দিয়ে সহযোগিতা করে। আমি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। যাতে আর কোনো সন্তানের এমন অবস্থা না হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা বলেন, হত্যার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। এভাবে নৃশংসভাবে মানুষকে হত্যা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ করতে পারে না। তারা সন্ত্রাসী।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শরীফ উদ্দিন, মিঠানালা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবু নোমান, মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর ইকবাল নাহিদ, মিঠানালার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হালিম বাবু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন, কাটাছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, মিঠানালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনিম হোসেন স্বাধীন, আবু নোমান, মো. ইমতিয়াজ, সদস্য সৈকতসহ নিহত জুয়েলের তিন ছোট ভাই, বন্ধু ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, আসামিরা সবাই চিহ্নিত হওয়ার কারণে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তারা মুঠোফোন ব্যবহার করছে না। আমাদের টিম তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য কাজ করছে। শীঘ্রই তাদের তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১১ টায় উপজেলার হাদিমুছা এলাকার রাজাপুর নতুন রাস্তা মাথায় এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল হাসান জুয়েলকে (২২) কুপিয়ে হত্যা করে আসামিরা। পরের দিন বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বাদ আসর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ইউনুসকে প্রধান আসামি করে নিহতের বাবা আলমগীর বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩-৪জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- মো. ইউনুস, রিয়াদ হোসেন, ফারুক ও আবুল বশর। তাদের মধ্যে ইউনুস ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি, রিয়াদ হোসেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ওমর ফারুক ইউনুসের খালাতো ভাই আর আবুল বশর ইউনুসের বাবা।

দেশ বর্তমান/এআই