বাঁশখালী প্রধান সড়কের সাথে শীলকূপ ও গন্ডামারা ইউনিয়নের বৃহদাংশ জনগোষ্ঠির অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম টাইমবাজার-গন্ডামারা সংযোগ সড়ক। গন্ডামারায় নির্মিত এস আলম গ্রুপ ও চীনের সেপকো থ্রির যৌথ মালিকানাধীন ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এস এস পাওয়ার প্লান্টের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম এই সড়ক। বর্তমানে এই সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি খানাখন্দে কোনরকমে চলাচল উপযোগী হলেও বর্যামৌসুমে অধিকাংশ স্থান হাটুজলে নিমজ্জিত হয়ে যায়। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে সড়কের খানাখন্দগুলো হাঁটুজলে ভরে যাওয়ায় সড়ক দিয়ে চলাচল করা প্রায় পনের হাজার জনগন ও বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সড়কে বাঁশখালী বঙ্গবন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ওয়াজেদিয়া সপ্রাবি, পশ্চিম মনকিচর সপ্রাবি, মনকিচর বড় মাদ্রাসা সহ বেশ কয়েকটি স্কুল মাদ্রাসা সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম দূর্ভোগে যাতায়াত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের বিকল্প সড়কটিও সংস্কার কাজে ব্রিকস খুলে ফেলায় কর্দমাক্ত হয়ে যাতায়াতের অনুপযোগী। বৃষ্টির মৌসুমে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। টাইম বাজার -গন্ডামারা সড়কটির কাজ কয়েকধাপে শুরু হলেও কাজ শেষ না করে কয়েকবার অদৃশ্যকারণে কাজ ছেড়ে পালিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারীতে সড়কের কাজ শুরু করেন। কার্যাদেশ পাওয়া এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডার হওয়ার এক বছর পর সড়কের কাজ শুরু করলেও কাজের তৃতীয় ধাপে এসে সড়কের একতৃতীয়াংশ কাজও শেষ না করে ১৯ মার্চ নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে সবার অগোচরে পালিয়ে যায়।
টাইম বাজার -গন্ডামারা সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা পথচারী মোঃ ইউনুছ ও সিএনজি চালক মোহাম্মদ মোমিন অভিযোগ করে বলেন, টাইমবাজার থেকে গন্ডামারা ব্রীজ পর্যন্ত সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা দু’পাশে বর্ধিত অংশের মাটি কেটে স্যান্ড ফিলিং করে মাঝপথে কাজ বন্ধ করে চলে যান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি বৃষ্টিবর্ষণ হলে সৃষ্ট গর্তে পানি জমে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। গাড়ী চলাচলতো দুরের কথা পায়ে হাঁটারও অযোগ্য হয়ে পড়েছে দুই ইউনিয়নের জনগনের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। দীর্ঘ কয়েক বছরেও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় জনমনে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার শীলকূপ টাইমবাজার ও পশ্চিমে গন্ডামারা ইউনিয়নের বৃহত্তম জনগোষ্ঠির সঙ্গে বাঁশখালী প্রধান সড়কে যাতায়াতের সুবিধার্থে টাইমবাজার থেকে গন্ডামারা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক বর্ধিতকরণসহ পানি নিষ্কাশন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ বর্ধিতকরণে সড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় পৌনে ৪ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারীতে সড়কের কাজ শুরু করেন। দু’পাশে বর্ধিত অংশের মাটি কেটে স্যান্ড ফিলিং করেন। মাঝপথে কাজ বন্ধ করে চলে যান। তৃতীয়ধাপে পুনরায় কাজ শুরু করে কাজের একতৃতীয়াংশ শেষ না করে অদৃশ্য কারণে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যায়।
শীলকূপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কায়েশ সরওয়ার সুমন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় জনগনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কাজ শুরু করার পরও কাজ সম্পুর্ন না করে কেন চলে গেছে সেটা জ্ঞাত নয়। মাননীয় সাংসদ মুজিবুর রহমান সিআইপি এবং উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আশা করছি অতি শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী (এল.জি.ই.ডি) কর্মকর্তা কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, দু’একদিনের মধ্যে সড়কটির রি-টেন্ডার হয়ে যাবে।বাজেটের অর্থ অনুমোদনও হয়ে যাচ্ছে। সড়কটির কাজ সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নির্ধারন হয়ে কাজ শুরু হতে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। বৃষ্টির মৌসুম শেষ হলেই সড়কটির কাজ শুরু হবে। কাজ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আগের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।’